ডলুরা বর্ডার হাট চালু হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের বর্ডারহাট কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে মঙ্গলবার চালু হয়েছে সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা বর্ডার হাট। আগামী ১২ মে দোয়ারাবাজারের বাগানবাড়ি এবং ১৬ মে চালু হবে তাহিরপুরের ডলুরা বর্ডার হাট। করোনা মহামারির শুরু থেকে (২৫ মার্চ, ২০২০ থেকে) ডলুরা বর্ডারহাট বন্ধ ছিল। যৌথ বর্ডার হাট (সীমান্ত হাট) ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৯ এপ্রিলের বৈঠকে মঙ্গলবার হাট খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
সুনামগঞ্জ সীমান্তেরর ডলুরা এলাকায় ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল গড়ে ওঠা দেশের ২য় ডলুরা— বালাট বর্ডার হাট সুনামগঞ্জ সীমান্তের জনপ্রিয় বর্ডার হাট। প্রতি মঙ্গলবার এই হাট বসে। করোনাকালে সেটি বন্ধ ছিল। এপারের ২৫ জন দোকানী এবং ওপারের ২৫ জন দোকানী এই হাটে বিক্রেতা হিসাবে বসেন।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তের বাগানবাড়ী বর্ডার হাট ও তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বর্ডারহাট গেল ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে কোনটাই চালু হয় নি।
মঙ্গলবার ডলুরা বর্ডার হাট পুনরায় চালুকালে উপস্থিত ছিলেন, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (সিলেট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত) নীরাজ কুমার জায়সওয়াল, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ইফতি সাম প্রীতি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রশিদ আহমেদ প্রমুখ। ভারতের হিস্ট খাসি হিলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
২০১৮ সালে শুরু হয় দুই দেশের সীমান্ত তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বর্ডার হাট ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বাগানবাড়ীতে বর্ডারহাট নির্মাণের কাজ। গত ২৬ মার্চ এই হাটগুলো উদ্বোধন হয়েছে। করোনার কারণে এই দুই হাট বসে নি।
ভারতীয় হাইকমিশনের সিলেট উপ—হাইকমিশনের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাতটি সাতটি বর্ডার হাট রয়েছে এবং আরো নয়টি নতুন হাট নির্মাণের পরিকল্পনায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত. বর্ডার হাট আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং জনগণের যোগাযোগে নতুনমাত্রা যোগ করছে। বর্ডার হাটগুলি স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছে। এটি সীমান্ত জনগণের জন্য আয়ের অতিরিক্ত উৎস্য হয়েছে। দুই দেশের মানুষের সংযোগ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের স্থানীয় জনগণের উৎপাদিত কৃষি ও উদ্যানজাত পণ্য, ক্ষুদ্র কৃষি ও গৃহস্থালীর পণ্য, সবজী, শুকনো মাছ, কুটির শিল্পের জিনিসপত্র, কাঠের আসবাবপত্র, তাঁত এবং হস্তশিল্পের পণ্যবিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করেছে।