বিকল্প বাঁধেও ভাঙন

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
গেল ৫ এপ্রিল ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্রসোনার থাল হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৭৫ নম্বর প্রকল্পের ডুবাইল ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় ২০০ হেক্টর জমির ফসল। ওই হাওরের অপর অংশে আরও ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির ফসল ঝঁুকিতে পড়ে। ফলে জেলা প্রশাসক হাওর পরিদর্শন করে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর বোরো ফসল রক্ষায় রাজাপুর বাজার থেকে কাউনাই নদীর পুগলিয়া ঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি বিকল্প বাঁধ তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাঁধ নির্মাণ করেন। কিন্তু বুধবার সকালে পানির তোড়ে সেই বাঁধের কুড়িরখেউ নামক স্থান ভেঙে ধারাম হাওরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে ইতোমধ্যে হাওরের নিচু অংশের ধান কর্তন করা হয়েছে। আর তাৎক্ষণিক বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ায় ঘুলুয়ার অংশে উচুতে অবস্থিত জমির ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না।
দীর্ঘ বছর ধরে দৌলতপুর থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত একটি বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে প্রতি বছরই ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির ধান নিয়ে কৃষকদের উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়। যদি দৌলতপুর থেকে রাজাপুর পর্যন্ত বাঁধটি নির্মাণ করা হয় তাহলে ধারাম, কাইঞ্জা, শালকুমড়া, টগাসমহ কয়েকটি হাওরের ১০/১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল রক্ষা পাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষক হক্কু মিয়া বলেন, ‘বিকল্প বাঁধের কারণে কয়েকটি হাওরের ধান রক্ষা পেয়েছে। রাজাপুর থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’
আরেক কৃষক মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা ঝুঁকির মধ্যে থাকি। এখানে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হলে ধারাম, কাইঞ্জা, টগাসহ অনেকগুলো হাওর ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।’
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন বলেন, ‘বাঁধটি কোন একটি কুচক্রি মহল ভেঙ্গে থাকতে পারে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি। ডুবাইল বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে এই বিকল্প বাঁধটি নির্মাণ করা না হলে কয়েকটি হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যেত। তাই এই স্থানে প্রতি বছর একটি কম্পার্টমেন্টাল বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এই বাঁধ ভেঙে ঝুঁকিতে পড়ার মতো নিচু জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। তাই তেমন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। ইতোমধ্যে হাওরে ৭৫ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘বাঁধের উপযোগিতার উপর ভিত্তি করে আগামী বছর দৌলতপুর থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত একটি কম্পার্টমেন্টাল বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’