সোনালী ফসল গোলায় তুলতে ব্যস্ত কৃষক

দিরাই সংবাদদাতা
বৈশাখীর তপ্ত রোদে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসলের মাঠে কৃষক ধান কাটা, ধান মাড়াই দেয়া, খড় গোছানোতে ব্যস্ত সময় পার করছে। মাড়াই করা ধান খলাতে শুকাতে কৃষক ও কৃষাণীর পরিবারের আবাল বৃদ্ধবণিতা হাড়ভাঙ্গা কাটুনি দিচ্ছেন নিরলসভাবে। কেউ কেউ তুলছেন গোলায় কেউ আবার খলা থেকেই বিক্রি করে দিচ্ছে সোনালী স্বপ্ন। নদীর পানি কমতে শুরু করায় স্বস্তি ও প্রশান্তিই বিরাজ করছে কৃষকের মনে। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেেঁচ থাকার অভিজ্ঞতা হাওরবাসীর রয়েছে পূর্ব থেকেই। নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার পরেও কৃষকের আপ্রাণ চেষ্টায় সফল হতে চলেছেন তারা। রাত জেগে বাঁধে পাহারা দিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা নিয়ে সারাদিন ফসলের মাঠে কাটিয়েছে কৃষক। কোন কোন হাওরে আসেনি বাহির থেকে ধান কাটার শ্রমিক। সরকার কর্তর্র্র্ৃক ভূতুর্কি মূল্যে সরবরাহকৃত হারভেস্টার মেশিন ভরসাই এখন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী দিরাইয়ের সবগুলো হাওরেই ফসল কাটা প্রায় শেষ।
উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, যেসব জমিন এখনো কাটার বাকি রয়েছে সেগুলো একবারেই শেষ মুহূর্তে চারা রোপন করা হয়েছিল।
সরেজমিনে দিরাইয়ের বৃহত্তম কালিয়াকোটা হাওর ঘুরে দেখা গেছে, হাওর পাড়ের আলীপুর, বলনপুর, পুরন্দরপুর, রফিনগর, মির্জাপুরসহ অনেক গ্রামেই অন্যান্য বছরের মতো প্রযোজনীয় সংখ্যক শ্রমিক আসেনি। কৃষক বলছেন, শ্রমিক না আসাতে আমাদের হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটতে হচ্ছে। তবে হারভেস্টার মেশিনে ফসল কাটলে খড়ের ক্ষতি হয়। এতে করে ছয়মাসের জন্য যে গবাদিপশুর খাবার (খড়) সংকটে পরবেন তারা।
এ প্রসঙ্গে আলীপুর গ্রামের কৃষক রতন তালুকদার বলছেন, ব্যাপারী (শ্রমিক) না পাওয়াতে মেশিন নির্ভর সকলেই। মেশিনে ফসল কাটাতে সিরিয়াল ধরা লাগছে কারণ আমাদের এরিয়াতে মাত্র তিনটি মেশিন রয়েছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে হাওরের সব ধান পাকা। সকলেই কাটাতে চাইছে। খের (খড়) পাই বা না পাই ধানগুলো গোলায় গেলেই খুশি আমরা।
এদিকে পানি কমে যাওয়াতে বাঁধগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার অধিক ঝুঁকি না থাকার পরেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ রাতদিন বাঁধের পরিচচার্ ও দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাপাউবো দিরাইয়ের শাখা কর্মকর্তা এটিএম মোনায়েম হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের অফিসের কর্মরত কেই ঈদের ছুটি পাবেন না। পানি কমে গেলেও আমরা এখনো বাঁধ ছাড়িনি। মোনায়েন হোসেন বলেন, টোটাল ফসল না উঠা পর্যন্ত আমরা সর্বক্ষন বাঁধেই থাকবো।