বিশ্বম্ভরপুরে পর্যটনস্পটগুলোতে পর্যটকদের ঢল

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
ঈদের ছুটিতে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দৃষ্টিনন্দন হাওর বিলাস, পাহাড় বিলাস সহ পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় পর্যটনস্পটগুলো মুখরিত হয়ে উঠছে। সকাল থেকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পর্যটকদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় রাজ্যের নীল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত পাহাড় বিলাস ও উপজেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণে খরচার হাওর পাড়ের মনোরম পরিবেশে হাওর বিলাসে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি হচ্ছে। পাহাড় বিলাস ও হাওরবিলাসের পাশে রয়েছে নাস্তা করার জন্য হাওর ভিউ ক্যাফে। ক্যাফেতে পাওয়া যায় মজাদার পিঠাসহ হরেক রকমের খাবার। দুটি পর্যটন স্পটে নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
এদিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের আগমনে স্থানীয় মানুষজনও আনন্দিত। পর্যটকরা আসায় দোকানীদের বেচাকেনা বেড়েছে। আয় বেড়েছে সিএনজি, রিক্সা, অটোরিকশা চালকদের। এছাড়াও অনেক বেকার ছেলেরা ছবি তুলে দিয়ে আয় করছে।
নবীগঞ্জ উপজেলার খনকারিপাড়ার পীর সাহেব বাড়ি থেকে আসা পীরজাদা শাহ দিদারুল আলম চিশতী , বাউল এসএম শিপন, সুফল আহমেদ বলেন, হাওরবিলাস পর্যটন কেন্দ্রটি ভিন্নধরণের। আমরা একসাথে ১৬ জন এসেছি। তারা জানান, এখানে এসে আমরা আনন্দময় সময় পার করেছি। হাওরভিউ ক্যাফেতে বসে মরমি লোককবিদের গান করেছি।


সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর থেকে আসা সাদিয়া, সৃষ্টি ও অনিন্দিতা বলেন, হাওর বিলাস আমাদের খুবই ভাল লেগেছে। বসার মত সুবিধা যদি আরও থাকতো তবে ভাল হতো।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাবউদ্দীন ও সাবেক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অনুকূল দাশ বলেন, সত্যিকার অর্থে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাটি এখন অপরূপ সৌন্দর্যে্য ভরপুর। উপজেলাকে দৃষ্টিনন্দন করে উন্নয়ন করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ জানান।
জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদিউর রহিম জাদিদের ঐকান্তিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যটন স্পট হাওরবিলাস, পাহাড়বিলাস, হাওরবৃত্ত, বোয়ালচত্ত্বর, জয়বাংলা চত্ত্বর, উপজেলার মানচিত্র ফোয়ারা, তেরাকৌটা, কৃষক জেলে স্পট আশ্রয়, কৃষাণ চত্ত্বর, ফুলের বাগান, ওয়াক ওয়ে, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট নির্মাণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, আমি উপজেলায় যোগদানের পর দেখি সন্ধ্যার পর উপজেলা সদরে লোকজন আসা যাওয়া দেখা যায় না। এমতাবস্থায় উপজেলাকে সুন্দর করার প্রচেষ্টায় সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে হাওরবিলাস, পাহাড়বিলাসসহ পর্যটন স্পটগুলোতে প্রতিদিন স্থানীয় সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহু পর্যটকরা আসছেন।