বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের কাজ বন্ধ থাকার প্রকৃত রহস্য কী?

একটি অদ্ভূত তথ্য জানা গেল গতকালের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে। তথ্যটি শহরবাসীর দৈনন্দিন জীবন যাপন ও নিত্যদুর্ভোগের সাথেও সম্পর্কিত বিধায় গুরুত্বপূর্ণ। অসহনীয় বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে জেলা সদরের বাসিন্দাদের তীব্র ভোগান্তির যেসব কারণ উন্মোচিত হচ্ছে প্রকাশিত তথ্যটি তারই একটি। এর আগে যেমন জানা গিয়েছিল শহরে অননুমোদিতভাবে হাজারখানের এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের কারণে বিদ্যুতের লোড ম্যানেজম্যান্ট সমস্যা হচ্ছে, এবার জানা গেল সঞ্চালন লাইনজনিত আরেক ভয়াবহ তথ্য। বিদেশি দাতাসংস্থা জাইকার অর্থ সহায়তায় বিদ্যুৎ অফিস থেকে মাইজবাড়ি পর্যন্ত নতুন সঞ্চালন লাইন টানার একটি প্রকল্প শুরু হয় কয়েক বছর আগে। সঞ্চালন লাইন টানার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে এসে নাকি তৎকালীন জেলা প্রশাসকের বাধার কারণে বাংলোর সন্মুখে বিদ্যুতের খুঁটা বসাতে পারেননি। ফলে জেলা প্রশাসক বাংলো থেকে ওই সঞ্চালন লাইন আর সামনে এগোতে পারিনি। ঠিকাদার কাজ বাকি রেখেই চলে যান। নতুন সঞ্চালন লাইনটি তাই শেষ করা যায়নি। এখন পর্যন্ত পুরাতন লাইনেই চলছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। শহরের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য এই পুরাতন সঞ্চালন লাইন বহুলাংশে দায়ী বলে খোদ বিদ্যুৎ অফিস থেকেই জানানো হয়। এরকম একটি স্পর্শকাতর বিষয় কেন এতদিন চেপে রাখা হলো কিংবা যে মুহূর্তে সমস্যার উদ্ভব ঘটেছিল বিদ্যুৎ বিভাগ কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেননি এবং কাজ বাকি রেখে ঠিকাদার কিভাবে দায়মুক্ত হলেন এসব বিষয়গুলো এখন সংগত কারণেই সামনে চলে এসেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল প্রকৌশলী এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছেন।  
কোন প্রেক্ষাপটে এবং কেন তখন তৎকালীন জেলা প্রশাসক তাঁর বাংলোর সামনের রাস্তায় খুঁটি বসাতে নিষেধ করেছিলেন তা আমাদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে না। আমাদের মনে হয় না কোন যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া সরকারের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা এরকম কাজ করতে পারেন। আর যদি করেও থাকেন তাহলে সেটি আরও উচ্চস্তরের নজরে এনে সমাধানযোগ্য ছিল। আমাদের প্রশ্ন হলো, বিদ্যুৎ বিভাগ কেন তখন সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেননি? তিনি নিজের বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারতেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক বদলি হয়েছেন এখন থেকে সোয়া দুই বছর আগে। আর ঠিকাদারের কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত জুন মাসে। তাহলে বিদ্যুৎ প্রকৌশলী নতুন জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানালেন না কেন এতদিন? প্রকাশিত সংবাদে বর্তমান জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করেই বলেছেন, তাঁকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। এক্ষেত্রে দায়-দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকেই গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে নতুন সঞ্চালন লাইন কার্যকর না হওয়ায় শহরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির যেটুকু উন্নতি হওয়ার কথা ছিল তা আটকে গেছে। অন্যদিকে অর্ধসমাপ্ত কাজের মাধ্যমে ব্যয়িত টাকার পুরোটাই আপাতত অপচয় বলেই ধরে নিতে হবে। বিদেশি ঋণের এমন অপব্যবহার করার জন্য দায়ীরা কি কোন ধরনের জবাবদিহিতার আওতায় আসবেন না? আমাদের মনে হয় সাবেক একজন জেলা প্রশাসকের উপর দায় চাপিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ যেভাবে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছেন সে বিষয়ে উপযুক্ত তদন্ত হওয়া উচিৎ। শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সীমাহীন অবহেলা আর দুর্নীতির চিত্র আমাদেরকে ভয়াবহ ভোগান্তির সন্মুখে ঠেলে দিয়েছে। কোন কর্মকর্তা বিশেষের গাফিলতি কিংবা দায়িত্বহীনতার জন্য এই ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলেই শহরের মানুষের ধারণা। এ অবস্থা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা দরকার। বহু টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া নতুন সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজটি বন্ধ রাখার বিষয়ে তাই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।