স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়া এলাকার প্রায় শতাধিক বাড়ির টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন উজানের পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢলের নোংরা পানিতে ঘরের রান্না ঘরসহ তলিয়ে গেছে বসতঘর। অনেকে ময়লা পানির আগ্রাসন থেকে বাঁচতে খাট উঁচু করেছেন। তবে সচেতন না হলে পানি বাহিত রোগের প্রকৌপ বাড়তে পারে বলেছে স্বাস্থ্যবিভাগ।
সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া এলাকায় সোমবার রাত ১০ টা পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলো। মাঝ রাত থেকে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে শুরু হয় ভারি বৃষ্টিপাত।
মঙ্গলবার (১৭ মে) ভোররাত থেকে সুরমা নদীর তীরের সড়কে পানি উঠতে শুরু করে। পরে পাশের এলাকা প্লাবিত হয়। এসময় তেঘরিয়ার শতাধিক বাড়ি উজানের এই ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে ডুবতে থাকে বাড়ির নিরাপদ খাবারের উৎস টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন। এতে পানি বাহিতরোগের হুমকির মধ্যে পড়েছে অনেক পরিবার।
পূর্ব তেঘরিয়ার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ বললেন, বাড়ির ভেতর পানি উঠেছে। টিউবওয়েল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ল্যাট্টিনের ময়লা পানি ভেসে আসছে। তাই সবাই উঁচু এলাকার টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করছে। যাদের টিউবওয়েলে মোটর লাগানো তারা সেখান থেকেই পানি সংগ্রহ করছেন।
একই পাড়ার বাসিন্দা হাসেম বললেন, ‘ঘরে দোয়ারে পানি উঠে গেছে। বিছানায় পানি লেগেছে। পানির কল ডুবে গেছে। বিছানার নিচে ইট দিয়েছি। কোনো মতে ঘরে আছি আমরা।’
গৃহিনী খতবানু বললেন, ‘পানির খুবই কষ্ট আমাদের। টিপকল ডুবে গেছে। ভালো পানি পাচ্ছি না। এখন আমার চাচা শ^শুরের বাড়ি থেকে দুই কলস পানি আনছি।’
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন আহম্মদ হোসেন বলেন, যেসব টিউবওয়েল ডুবে গেছে, সেখান থেকে পানি খাওয়া যাবে না। আমাদের কাছে পানি নিরাপদ করার ট্যাবলেট রয়েছে। সেগুলো দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের পরে পানি পান করতে হবে। এসব ট্যাবলেট দুর্গতদের দেওয়ার জন্য আমরাদের প্রস্তুতি রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এই পানি বাড়তে পারে। তবে আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে।


