খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে বন্যা দুর্গতরা

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। প্রায় ১০ সেন্টিমিটারের মতো পানি কমেছে। তবে এখনও সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় দেড় শ’ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। শহরের ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় দু’শ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে সরকারি ছাড়াও মুহিবুর রহমান মানিক ও ছাতক পৌরসভার মেয়রের উদ্যোগে যথারীতি খাদ্য সামগ্রী ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি দূরপাল্লার বাস আসা—যাওয়া করতে দেখা গেছে। রাস্তা—ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এদিকে শহরের বাইরে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগছে। এসব পানিবন্দি মানুষ সরকারি—বেসরকারিসহ কোন ধরনের ত্রান সহায়তাও পাচ্ছে না। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর তীব্র ে¯্রাতের কারণে ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের পানিবন্দি মানুষের কাছে ণসহায়তা পৌঁছে দেয়া অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন অনেকেই। যে কারণে পানিবন্দি এসব মানুষ রয়েছে সরকারি—বেসরকারি ত্রাণ সহায়তার বাইরে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের চরম দুর্ভোগ থেকে যাচ্ছে লোকচক্ষুর অন্তরালে।
অভিজ্ঞজনরা মনে করেন, শহর এবং শহরের আশপাশের বন্যাকবলিত মানুষকে সহায়তা প্রদানে অনেকেই হাত বাড়িয়ে থাকে। তারা সরকারি—বেসরকারি ত্রাণ পেয়ে থাকে সহজেই। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের পানিবন্দি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ দেখার কেউ থাকে না। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারি—বেসরকারি সংস্থার প্রতি আহবান জানান তারা। এদিকে বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এ বছরের বন্যার পানি অত্যন্ত ধীরগতিতে কমছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তাদের অভিযোগ ছাতকে সরমা নদীর উপর নির্মিত সেতুর সাথে সংযোগ সড়কে পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকায় বন্যার পানি সহজে নামতে পারছে না। যে কারণে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অত্যন্ত ধীরগতিতে হচ্ছে।