কাজী মাও. মো. শাহেদ আলী এম.এম
পবিত্র হজ্জ ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ। হজ্জ শব্দের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহতা’লার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে হজ্জের জন্য নির্ধারিত তারিখ অর্থাৎ জিলহজ্জ মাসের আট তারিখ থেকে তের তারিখ পর্যন্ত পবিত্র কাবা শরীফের ঘরসহ সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ শরীয়ত নির্ধারিত কাজসমূহ সম্পাদন করাকে হজ্জ বলা হয়। যে সকল প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম বালেগ, আকেল, নর-নারী হজ্জে যাওয়ার মত শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ রয়েছে তাদের উপর কেবল জীবনে একবার হজ্জ আদায় করা ফরজ। মহান আল্লাহতা’লা পবিত্র কুরআন শরীফে এরশাদ করেছেন, অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যার যেখানে যাওয়ার সামর্থ আছে, আল্লাহতা’লার উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য।
এই কাবা শরীফের ঘর সম্পর্কে মহান আল্লাহতা’লা ইরশাদ করেন, অর্থাৎ নিশ্চয়ই মানব জাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাতো বাক্কায় (মক্কা) তা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী। এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে। যেমন মাকামে ইব্রাহিম আর যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। সুরা আল ইমরান আয়াত নং-৯৬ ও ৯৭। হজ্জ ও উমরা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফে উল্লেখ আছে, অর্থাৎ তোমরা আল্লাহতা’লার উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উমরা পূর্ণ কর-আল কুরআন।
পবিত্র হজ্জ তিন প্রকার ১। হজ্জের ইফরাদ, ২। হজ্জে তামাত্তু ৩। হজ্জে কিরাণ। হজ্জের ফরজ তিনটি ১। ইহরাম বাঁধা, ইহার অর্থ কোনো বস্তু বা কর্মকে হারাম বা নিষিদ্ধ করা। হজ্জ ও উমরা পালনকারী ইহরাম অবস্থায় এমন কিছু বিষয় নিজের উপর হারাম করে নেয়, যা তার জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় হালাল ছিল। এই কারণে ইহরামকে ইহরাম বলা হয়। ইহরামের আবশ্যকীয় কাজগুলি সুসম্পন্ন করে সুন্নাত তরীকা মতে ২টি সেলাই বিহীন চাদর ও লুংগী পরিধান করে টুপি মাথায় দিয়ে ইহরামের নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়া। নামাজ শেষে টুপি খুলে ইহরামের তালবিয়া পাঠ করা।
তালবিয়া : ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক-লাব্বাইকা লা শরীকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক লা শরীকা লাক।’ অর্থ: আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, আমি হাজির, কোনো শরীক নাই তোমার, আমি হাজির, নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই আর সকল সা¤্রাজ্যও তোমার, কোন শরীক নাই তোমার।’ হজ্জের নিয়ত: অর্থ হে আল্লাহ আমি হজ্জ পালন করার নিয়ত করেছি। আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং তা কবুল করুন। বাস্তবিকই পবিত্র হজ্জ ইবাদত একটি কঠিন কাজ। আল্লাহতা’লা যেন সকল মুসলিম নর নারীকে হজ্জ করা সহজ করে দেন এবং হজ্জে মাবরুর দান করেন। আমীন।
কুরবানী অর্থ আল্লাহতা’লার নৈকট্য লাভ করা
পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, অর্থাৎ হে মুহাম্মদ (সা:) আপনি একমাত্র আপনার সৃষ্টিকর্তার আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তেই নামাজ পড়–ন এবং কুরবানী করুন। Ñআল কুরআন
হুজুর পাক (সা:) এরশাদ করেছেন যে, কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে কুরবানী ছাড়া অন্য কোনো কাজ আল্লাহর নিকট এতো বাঞ্ছনীয় নহে। কুরবানীর সময় ইহাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। কুরবানীর জানোয়ার জবেহর সময় প্রথম রক্তের ফোটা মাটিতে পৌঁছিবার পূর্বেই ইহা আল্লাহপাকের দরবারে কবুল হয়ে যায়। আরও এরশাদ করেন যে, কুরবানীর পশুর যত পশম থাকে প্রত্যেক পশমের পরিবর্তে এক একটি নেকী লেখা হয়-সুবহান আল্লাহ।
হুজুর পাক (সা:) এরশাদ করেন, তোমরা উত্তম রূপে কুরবানী কর। কেননা উহা রোজ কিয়ামতে তোমাদের জন্য যানবাহন হবে। হযরত রাসুলে করীম (সা.) স্বীয় কন্যা হযরত ফাতিমা (রা:) কে এরশাদ করেন যে, তুমি তোমার কুরবানীর জন্তু জবেহ করার সময় নিকটে থাকবে এবং পড়বে- ‘কুল ইন্না সালাতী ওয়া নুছুফী ওয়া মাহ ইয়াহিয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’
পরম করুণাময় আল্লাহতা’লা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানগণের নামাজ, হায়াত, মউত এবং কুরবানীকে কবুল করুন। আমীন
লেখক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সুপার, ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদরাসা, মঙ্গলকাটা, সদর সুনামগঞ্জ।


