আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
‘সকালে ওঠেই মা আফরোজা বেগম ও বাবা ময়না মিয়াকে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো, ‘আমারে কেন্দ্র ফি’এর ৪৫০ টেকা দেও, দেখবায়নে আমি ভালা পাস কইরা দেখাইমু তোমরারে। মা-বাপে কইছে, আজকে টেকা নাই, কাইল যাইবে নে, পরে চাচা আমির হকের টাইন থাকি হাওলাত কইরা ৫০০ টেকা আইন্না স্কুলও গেছে, দিন-খারাপ কিন্তু মনের আনন্দে ভিইজ্জা টিইজ্জা দৌড়াইয়া গেছে, ঔযে গেছে ভাই, আর এডমিট কার্ড লইয়া আইলো না, নাতি টাও লাশ অইয়া আইলো।’
দোয়ারাবাজারে স্কুলে যাবার পথে বন্যার পানিতে নৌকা ডুবে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই ভাই বোনের মৃত্যু ঘটনার এভাবে বর্ণনা দিচ্ছিলেন শিশুদের দাদা মারাজ আলী। মর্মস্পর্শি এই মৃত্যুর ঘটনায় কেবল মারাজ আলী নয়, পুরো রাজনগর গ্রামবাসী জড়ো হয়ে কাঁদছিলেন।
নিহত এএসএসসি পরীক্ষার্থীর নাম তামান্না আক্তার এবং তার ভাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ মিয়া (১০)। এই দুই শিক্ষার্থী উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের ময়না মিয়ার সন্তান। বুধবার বেলা দুই টায় তামান্না আক্তার এবং এর আগে সৌরভের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় পাশের গোজাউড়া হাওর থেকে।
পুলিশ জানায়, বুধবার বেলা ১১ টায় চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের চাচা আমিনুল হক হাতে বাওয়া ছোট নৌকা নিয়ে রাজনগর গ্রাম থেকে পাশের সমুজ আলী স্কুল এ- কলেজে যাচ্ছিল। তামান্না আক্তার (১৪), সাইফুল (১৫) এবং রুমি আক্তার (১৬) নামের শিক্ষার্থী তিনজন এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে এবং সৌরভ তাদের সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল। পথে গোজাউড়া হাওরে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে সৌরভসহ তিনজনকে উদ্ধার করে। পানিতে ডুবে যাওয়া অসুস্থ্য সৌরভকে দোয়ারাবাজার হাসপাতালে নেবার পর ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। সৌরভের বোন নিখোঁজ তামান্না আক্তারকে বেলা দুই টায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় হাওর থেকেই উদ্ধার করে পুলিশ।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেব দুলাল ধর জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটেছে। বিষয়টি বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিহতদের পরিবারকে ৪০ হাজার টাকা সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দিয়েছেন। দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


