শান্তিগঞ্জে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৯৫ ভাগ ঘর বাড়িতে পানি উঠেছে। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১১৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ সুরমা নদী দিয়ে পানি বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার উপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সকাল থেকে মহাসিং, লাউয়া ও নাইন্দা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২—৩ ঘন্টার মধ্যে উপজেলা ৮ টি ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মুরাদপুর—ভাটিপাড়া সড়ক, বীরগাঁও বাজার—পাগলা সড়ক, বুড়ুমপুর—আমরিয়া সড়ক, ইনাতনগর—পাগলা সড়ক, শিমুলবাক—তেহকিয়া সড়ক, জয়কলস নোয়াগাঁও সড়ক, পাবর্তীপুর—সুলতানপুর সড়ক, কামরূপদলং—আস্তমা সড়ক, বড়মোহা—ডুংরিয়া সড়ক সহ ছোট বড় গ্রামীণ রাস্তা শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নদ নদী দিয়ে বিপদসীমার উপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলাবাসীর মাঝে আতংক বিরাজ করছে। বিশেষ করে দিন মজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের ঘরে খাবার নেই। আবার অনেকের ঘরে খাবার থাকলেও চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করে খাবার খেতে পারছেন না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। পাশপাশি উপজেলার ৯৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সদরপুর, বড়মোহা, উমেদনগর, হাসারচর, দামোধরতপী, সর্দারপুর—কান্দাগাঁও, গণিগঞ্জ সহ প্রায় ১৫টি বিদ্যালয়ে বন্যার পানি চলে আসায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার বুড়ুমপুর গ্রামের বাসিন্দা মনির উদ্দিন বলেন, বৃষ্টির পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে গ্রামের মানুষ। গৃহপালিত গরু, ছাগল, হাঁস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বন্যার পানিতে রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় এখন চলাচলের একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা।
ডুংরিয়া শিবপুর গ্রামের নোয়াবাড়ীর বাসিন্দা হজিবুর রহমান, আবুল হাসানাত, মাসুক মিয়া জানান, হঠাৎ করে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন নৌকাও নেই, বাঁশের সাকোও নেই। বসত ঘরে বসে বসে দিন কাটাচ্ছি। জরুরী বাজার সওদাই করার জন্য কোমর পানি দিয়ে ভিজে বাজারে যাতায়াত করছি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম খাঁন বলেন, উপজেলার ৯৭টি স্কুলের মধ্যে ১৫টি স্কুলে বন্যার পানি চলে আসায় পাঠ দান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা মো. শাহাদাত হোসেন ভূইয়া জানান, বন্যা এলাকায় চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমদ জানান, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বন্যার্থদের মাঝে সহায়তা কার্যক্রমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাদের বসত বাড়ী ডুবে গেছে, তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ জামান জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার্তদের জন্য উপজেলার ১১৭ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাছাড়া পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।