শান্তিগঞ্জে এখনো জমে উঠেনি ঈদের বাজার

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এখনো জমে উঠেনি ঈদের বাজার। ক্রেতাশূন্য উপজেলার প্রতিটি বাজারের কাপড়, জুতা, মুদি ও মসলা পণ্যের দোকানগুলো। এতে হতাশ ব্যবসায়ীরা। ভয়াবহ বন্যার কারণেই ব্যবসার এমন পরিস্থিতি বলে মনে করছেন দোকানিরা।
বৃহস্পতিবার উপজেলার চিকারকান্দি বাজার, পাগলা বাজার ও ভমবমি বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাজারের প্রায় প্রতিটি দোকানেই ক্রেতা শূন্য। অন্যান্য বছরের তুলনায় ক্রেতা নেই মুদির দোকানে। শূন্যতা বিরাজ করছে মসলাপাতির দোকানগুলোতেও। বলতে গেলে একেবারেই ভিড় নেই কাপড় ও জুতার দোকানে। ব্যবসা বাণিজ্য তো হচ্ছেই না বরং লোকসান গুণতে হবে ব্যবসায়ীদের।
বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর ব্যবসা বেশ মান্দা। আগের বছরগুলোর মতো এ বছর মোটেও ব্যবসা হচ্ছে না। গত বছর যে ব্যবসায় এমন সময়ে ৭০ হাজার টাকার কাপড় বিক্রয় করতেন অনেক ব্যবসায়ী এবার সে ব্যবসায় প্রায় ৬০ শতাংশ বিক্রি কম হচ্ছে। মোদির দোকানগুলোরও একই অবস্থা। যে দোকানে ঈদের তিনদিন আগে লক্ষাধিক টাকার পণ্য বিক্রয় করেছেন দোকানিরা সে দোকানে এ বছর বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০/৪০ হাজার টাকা।
পাগলা বাজারের হালিমা ফ্যাশনের পরিচালক মো. সাব্বির আহমদ জানান, গত বছরগুলোতে ঈদের এক সপ্তাহ আগে ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার পোষাক বিক্রি করেছেন। একই সময়ে এবছর বিক্রি হচ্ছে ৪০/৫০ হাজার টাকা। বিক্রি কমেছে প্রায় অর্ধেক। তার কথার সাথে সুর মিলিয়ে প্রায় একই কথা বলেন ভমবমি বাজারের গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ভাই ভাই গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারি ভক্ত দত্ত ও পাগলা বাজারের অর্পন ফ্যাশনের মালিক অর্পন দেবনাথ।
পাগলা বাজারের চামেলী সু স্টোরের পরিচালক মাহতাবুল ইসলাম ইহাম বলেন, আমাদের ব্যবসা একেবারেই মান্দা। কাস্টমার আসেন না। খুব কম কাস্টমার আসছেন বাজারে। বন্যার কারণে ব্যবসায় খুব বেশি ক্ষতি হবে।
সুনামগঞ্জের ওয়েজখালী বাজারের ব্যবসায়ী, আরিফ স্টোরের স্বত্বাধিকারি আবুল হোসেন ও শান্তিগঞ্জের চিকারকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া বলেন, বাজারে সব ধরণের ব্যবসায় বিক্রি মান্দা। কোনো ব্যবসা হচ্ছে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে প্রায় অর্ধেক।
ব্যবসায় বাণিজ্যের এমন দুরবস্থা হওয়ার মূল কারণ হিসেবে ভয়াবহ বন্যাকেই বিবেচনা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও গৃহহীন হওয়ার কারণেই বাজারের এমন ধস নেমেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।