গানে গানে শাহ আব্দুল করিমকে স্মরণ

সু.খবর ডেস্ক
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভুড়বুড়িয়া ছড়ার পানিতে দাঁড়িয়ে গানে গানে সিলেটের প্রখ্যাত বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমকে স্মরণ করেছে শ্রীমঙ্গল সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিল্পীরা।
বুধবার সন্ধা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমের ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন করতে চাঁদের  
আলোয় পানির উপরে দাঁড়িয়ে আয়োজন করা হয় গানে গানে শাহ আব্দুল করিমকে স্মরণ ও আলোচনা সভার।
শ্রীমঙ্গল সাংস্কৃতিক একাডেমীর পরিচালক সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লন্ডন প্রবাসী মো. আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক রজত শুভ্র চক্রবর্তী, ফারিয়ার সভাপতি দেবব্রত দত্ত হাবুল, সঞ্জয় কুমার দে, সাংবাদিক সুমন বৈদ্য, বিক্রমজিৎ বর্ধণ, কাউছার আহমদ রিয়ন, শিমুল তরফদার, তোফায়েল আহমদ, অরবিন্দ দেব, তানিসা চৌধুরী, রিজভী আহমদ ও তুর্য পাল প্রমুখ।
সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব শ্যামল আচার্য্যের পরিচালনায় গানে গানে অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন প্রান্থ আচার্য্য, সজল ঘোষ ও সুমন দাশসহ শ্রীমঙ্গল সাংস্কৃতিক একাডেমীর শিল্পীরা।
সভায় বক্তারা বলেন,‘ হাওর ও ভাটি বাংলার মানুষের গ্রাণের স্পন্দন ছিলেন শাহ্ আব্দুল করিম। তাদের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসা আর বিনোদনের পাশাপাশি তার গান কথা বলে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালনের। সকল অন্যায়,অবিচার,কুসংস্কার আর জাগতিক জড়তা বিরুদ্ধে। এসময় আয়োজকরা আরো জানান, বাউল আব্দুল কমির ভাটি বাংলার মানুষ। তিনি ভালোবাসতেন কালনী নদীকে। বর্ষায় নৌকায় বসেই গান ধরতেন। তাই শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ী ছড়ায় নেমে চাঁদের আলোয় এই গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তারা। অনুষ্ঠানে কুশিলব ও দর্শক শ্রোতা সবাই পানিতে দাড়িয়ে তা উপভোগ করেন।
সম্প্রতি সময়ে শত শত শিল্পী তার গানের মাধ্যমে এ্যালবাম বের করে জনপ্রিয় হয়েছেন।
জীবন সংগ্রামী শাহ আব্দুল করিম দারিদ্রের কষাঘাতে প্রায় নিস্পেশিত ছিলেন। তবুও মানুষকে তিনি দিয়ে গেছেন জীবন ভাবনার দর্শন। জীবদশায় তিনি রচনা ও সুর দিয়ে গেছেন হাজার হাজার গানের। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার গান ও গানের সুর সংরক্ষিত হয়েছে। ভাটি বাংলার মানুষের মুখে মুখে আজো তার অনেক সংরক্ষিত গান শুনা যায়। তার উল্লেখযোগ্য গান হলো, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না, বন্দে মায়া লাগাইছে, ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূর পংকী নাও।
বাউল শাহ আবদুল করিমের বেশ কিছু গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আফতাব সঙ্গীত (১৯৪৮), গণ সঙ্গীত (১৯৫৭), কালনীর ঢেউ (১৯৮১), ধলমেলা (১৯৯০), ভাটির চিঠি (১৯৯৮), কালনীর কূলে (২০০১), শাহ আব্দুল করিম রচনাসমগ্র (২০০৯)। এ ছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে তার রচনা সমগ্র “অমনিবাস” ও সাংবাদিক ও গবেষক সুমন দাশ সম্পাদিত “শাহ্ আব্দুল করিম স্মারক গ্রন্থ”। তার এ কর্মেন মুলায়ন হিসেবে রাষ্টের সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদকসহ পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।
শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী দিরাই থানার উজানধল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ইব্রাহীম আলী ও মাতার নাম নাইওরজান। বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু করেন ছেলেবেলা থেকেই। তাঁর প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা। যাকে তিনি ‘সরলা’ নামে ডাকতেন।
খ্যাতিমান মানবভাবুক এই বাউল স¤্রাট শাহ্ আবদুল করিম ২০০৯ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি ক্লিনিকে মৃত্যুবরণ করেন।