বন্যায় লন্ডভন্ড ছাতকের রেলপথ, তছনছ ৬২১কিমি সড়ক

বিজয় রায়, ছাতক
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ছাতকে যোগাযোগ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের সাথে যোগযোগ রক্ষাকারী সকল রাস্তা—ঘাট সহ ছাতক—সিলেট সংযোগকারী একমাত্র রেলপথটিও বন্যার প্রবল ে¯্রাতে তছনছ হয়ে গেছে। একদিকে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে রেলপথ আর অন্য দিকে যান চলচলে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় সব ক’টি সড়ক। এসব অনুপযোগি সড়ক দিয়েই অনেকটা ঝঁুকি নিয়ে যাতায়াত করছে লোকজন। সড়ক ও রেলপথ সংস্কারের কোন উদ্যোগ এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি।
উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও বাণিজ্যক দিক বিবেচেনায় সিলেট—ছাতকবাজার ৩৫ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপিত হয় ১৯৫৪ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিতভাবে রেল চলাচল অব্যাহত থাকলেও ২০২০ সালে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশের ন্যায় ছাতক—সিলেট রেলপথে রেলে চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে এ লাইনটি আর সচল করা হয়নি। সম্প্রতি বন্যার পানির তীব্র ে¯্রাতে ছাতক—আফজলাবাদ পর্যন্ত রেল লাইনের প্রায় ১৩ কিলোমিটার লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে। প্রাচীনতম রেলপথের মাটি ও পাথর ভেসে গিয়ে ঝুলে আছে লাইন ও স্লীপার। লাইনের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড়—বড় গর্ত। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা কেন্দ্র ও শিল্প শহর ছাতক থেকে পাথর, বালু, চুনাপাথর, সিমেন্ট ও কমলালেবু সহ মালামাল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতে এ রেলপথটি ছিল অন্যতম মাধ্যম। রেল যোগাযোগ ও সহজলভ্য কাঁচামালের উপর নির্ভর করে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লীপার কারখানা। বন্যায় তছনছ হওয়া প্রাচীনতম রেলপথটি মেরামত করে পুনরায় চালু করার দাবি তুলেছেন এখানের সাধারন মানুষ।
এদিকে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী প্রায় ৬২১ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি সড়ক। কোন—কোন সড়কের বিশাল অংশ ভেঙে খালের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ব্রীজেরই এপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে বিপদজনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ৬২০.৫৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩৬৩.৯৪ কিমি কাঁচা, ১৫৩.০২ কিমি বিটুমিন, ২.৮৩ কিমি ইট সলিং এবং ১০০.৭৪ আরসিসি সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের কোনটি অক্ষত অবস্থায় নেই। গৌরীপুর—শিমুলতলা, কৃষ্ণ চৌধুরী সড়ক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রায়সন্তোপুর সড়ক, কৈতক—সিরাজগঞ্জবাজার সড়ক, চরমহল্লা ইউপি থেকে কপলা ভায়া কামরাঙ্গি সড়ক, হাসনাবাদ—খাইরগাঁও সড়ক, ছাতক—আন্ধারীগাঁও—জাউয়া সড়ক, শ্যামপাড়া—কান্দিগাঁও সড়ক ও ছৈলা—গনীপুর সড়ক।
এছাড়া বুড়াইরগাঁও—আলমপুর—খাইরগাঁও সড়ক, কালারুকা পয়েন্ট—কালারুকা বাজার ভায়া তাজপুর সড়ক, বড়কাপন—কপলাবাজার সড়ক, জালালপুর—লামা রসুলগঞ্জ সড়ক, ছনবাড়ি বাজার সড়ক, জাউয়া লক্ষমসোম—কঢ়ুরগাঁও সড়ক, গোবিন্দগঞ্জ—ধারনবাজার—আমেরতল ভায়া রুক্কা সড়ক, ছৈলা—দশঘর সড়ক, জোড়াপানি—সিঙ্গেরকাচ সড়ক, গনেশপুর ফেরীঘাট—ইসলামপুর মাদ্রাসাবাজার সড়ক, নোয়ারাই—বালিউড়া সড়ক, কালপিুর—হায়দরপুর সড়ক, মঈনপুর— আলীগঞ্জ সড়ক, বিলপার সড়ক ও ডাকবাংলা—মোগলপাড়া সড়কের উপরের অংশ বন্যার পানির ে¯্রাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী ক্ষতিগ্রস্ত ২৪টি সড়ক মেরামত করতে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী আফসার আহমদ জানান, বন্যায় এলজিইডির নিয়ন্ত্রনাধিন সড়কের মধ্যে প্রায় ২৫০—৩০০ কিমি সড়ক বিভিন্নভাবে নষ্ট হয়েছে। সড়কগুলো পুরোপুরি সচল করতে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষ বরাবরে মেজারম্যান্ট ও চাহিদা পাঠানো হয়েছে।