নদী ভাঙনে বিলীন ৬০টি বসতঘর

স্টাফ রিপোর্টার
দুর্যোগ যেনো পিছু ছাড়ছে না মানুষের। ভয়াবহ বন্যার পর এবার নদী ভাঙনে ভিটেমাটি ছাড়া হচ্ছে মানুষ। সম্প্রতি বন্যায় সারাদেশের সাথে সুনামগঞ্জ যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। বানের পানি গতি এতটা ভয়াবহ ছিল যে সরকারি হিসেবেই ৪৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। সুনামগঞ্জে নদ, নদীর পানি কমলেও নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে মানুষ, এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
জেলার বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার সুলেকাবাদ ইউনিয়নের মুনিপুরি গ্রাম। গ্রামটিতে বসবাস ৪ শতাধিক পরিবারের। কিন্তু বন্যার পর নদী ভাঙনে ৬০টিরও বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, মুনিপুরি ঘাটের বাজারের ১৫টি দোকান নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই দোকানকোঠা বাঁচাতে দোকানের সামনে বাঁশ দিয়ে আড় দিয়েছেন। একই অবস্থা মুনিপুরি ঘাটের ট্রলার গ্রামের। ইটের দালানকোঠা ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। ৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
মুনিপুরিঘাটের ট্রলার গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুন নেছা বলেন, অনেক কষ্ট করে ঋণ করে বাড়িটা বানিয়েছি। কিন্তু যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে বাড়িটা টিকাতে পারব বলে মনে হয় না।
জমিরুন বেগম বলেন, বন্যার পানিতে ঘরের আসবাবপত্র ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ঘর-দুয়ারের ক্ষতি হলেও মেরামত করা যায়, কিন্তু নদী ভাঙনে একবার ঘর বিলীন হয়ে গেলে, আর সেটা পাওয়া যায় না। বন্যার চেয়েও ভয়ংকর নদী ভাঙন।
মুনিপুরি ঘাট বাজারের ব্যবসায়ী মমতাজ মিয়া বলেন, বাজারের ১৫ টি দোকান নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। আমার দোকানটা রক্ষা করতে চারদিকে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়েছি। জানি না শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারব কি না।
ট্রলার গ্রামের বাসিন্দা জহুরা বেগম বলেন, রাত হলে ঘুম আসে না, সব সময় আতংকে থাকি এই বুঝি নদীতে ঘর বিলীন হয়ে গেল। নদী ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করে আমাদের আতংক থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, নদী ভাঙন রোধে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যে সকল এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেই সকল এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে বালু মিশ্রিত বস্তা ফেলা হচ্ছে।