স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা-চৌমুহনী সড়কে সাঁকো তৈরি করে অবৈধ টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় হচ্ছে এই সাঁকোতে। চাঁদাবাজরা প্রভাবশালী হওয়ায় পথচারীরা বেকায়দায় পড়েছেন। বিগত বন্যায় মঙ্গলকাটা বাজারের পার্শ্বে সড়কের কিছু অংশ পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে যায়। এতে সড়কে যানবাহনসহ মানুষ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সড়কের সংস্কারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে সড়কের উপর বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে যানবাহন ও মানুষ চলাচলের জন্য একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের কাছ থেকে টোল আদায়ের নামে এই সাঁকোতে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।
মঙ্গলকাটা-চৌমুহনী সড়ক দিয়ে প্রতিদিন তিন ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। এক পথচারীকে ১০ টাকা, মোটর সাইকেল ২০ টাকা এবং ভ্যান, পিকআপ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হয় বলে জানান এলাকার বাসিন্দা ও আদায়কারী আব্দুল মন্নান, শাহজান মিয়া, নুরুলগণী ও মনোয়ার।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়ক জনচলাচলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঢলের প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়ার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পরে এলাকার কয়েকজনে এই ভাঙ্গনে বাঁশ দিয়ে জন চলাচলের সুবিধা তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে টাকা আদায় করছে।
টাকা আদায়কারী আব্দুল মন্নান বলেন, ‘এই ভাঙ্গা সড়কে বাঁশ দিয়ে জনচলাচলের সুবিধা তৈরি করতে আমাদের ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমরা ২ মাস ধরে টাকা আদায় করে আসছি। সাঁকো নির্মাণের খরচ পেলে আর টাকা আদায় করবো না।’
স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. মকসুদ আলী বলেন, ‘সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর এই সড়ক সংস্কারে কোনো বরাদ্দ পাইনি আমি। সড়কে যখন মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না, তখন এলাকার কিছু লোক বাঁশ দিয়ে যাতায়াত সুবিধা তৈরি করে দেয়। এই সুবিধা তৈরি করে দেয়ায় সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রী এবং পথচারীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছেন তারা। পরে আমি এই বাঁশের সড়ক ভেঙ্গে দেয়ার কথা বলে আসি। আমার কথা অমান্য করে এখনও সড়কে টাকা আদায় অব্যাহত রেখেছে তারা।’


