ধর্মপাশা প্রতিনিধি
কুদরত আলী মৃত্যুকালে তিন ছেলে ও তিন রেখে মারা যান। সেই অনুযায়ী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য উত্তরাধীকার সনদ দেন। ওই সনদ ব্যবহার করা হয় নামজারি ও জমা খারিজের কাজে। কিন্তু উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্বে থাকা ইউএনও ওই নাম খারিজের শুনানীর সময় উত্তরাধীকার সনদপত্রে দেখতে পান চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর স্ক্যান করে বসানো হয়েছে। আর কুদরত আলীর তিন মেয়েকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র তিন ছেলেকে উত্তরাধীকার করা হয়েছে। এ সময় ইউএনও’র কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য সনদটি তাদের নয় এবং তা জাল করা হয়েছে বলে জানান। আর সনদ জালের কাজটি করেছেন ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ সাবরেজিষ্টার কার্যালয়ের দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেন। মঙ্গলবার দুুুপুরে দেলোয়ার হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেন জাল উত্তরাধীকার সনদপত্র দিয়ে সেলবরষ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপুর গ্রামের মৃত কুদরত আলীর ছেলেদের পক্ষে পৈত্রিক সম্পত্তির নামজারি ও জমা খারিজের আবেদন জমা দেন। গত সোমবার ইউএনও কার্যালয়ে এ নাম খারিজের শুনানি হয়। এ সময় সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য শাহীনূর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জাল উত্তরাধীকার সনদের বিষয়টি সামনে আসে। দেলোয়ার হোসেনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। এ ঘটনায় উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আব্দুল মোনায়েম খান বাদী হয়ে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ওইদিন রাতেই ধর্মপাশা থানায় মামলা করেন।
সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, ‘আমার কাছ থেকে তিন ছেলে ও তিন মেয়ের নামে উত্তরাধীকার সনদ নেওয়া হয়। কিন্তু পরে শুধুমাত্র ছেলেদের উত্তরাধীকার করে আমার ও ইউপি সদস্য শাহীনুর মিয়ার স্বাক্ষর স্ক্যান করে সনদ তৈরি করা হয়।’
উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্বে থাকা ইউএনও মুনতাসির হাসান বলেন, ‘জাল সনদ দিয়ে নামজারি ও জমা খারিজের চেষ্টা করায় দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
- ‘মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি’
- জগন্নাথপুরে পানি সংকটে আমন চাষাবাদ বিঘ্নিত, দুশ্চিন্তায় কৃষক


