পঞ্চায়েতি মসজিদকে নিয়ে ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট, এলাকায় উত্তেজনা

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি
শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের ছয়হাড়া পুরাতন কেন্দ্রিয় জামে মসজিদকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ উত্তেজনা যে কোনো সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বিকালে ছয়হাড়া পুরাতন কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাও. এম কে জয়নাল আবেদিনের বিয়ের ছবি সংম্বলিত একটি ছবি পোস্ট করেন দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রওশন খান সাগর। স্ট্যাটাসে ছয়হাড়া পুরাতন কেন্দ্রিয় জামে মসজিদকে ছয়হাড়া পাঠানবাড়ি জামে মসজিদ বলে উল্লেখ করেন রওশন খান সাগর। এ নিয়ে এলাকায় জল্পনা-কল্পনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মসজিদটির ক্বিরাত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাজিম রায়হান কবির জানান, একশ বছরের পুরনো এ মসজিদটি পাঠানবাড়ি অর্থাৎ সাগর খাঁন সাহেবের বাড়ির কাছাকাছি অবস্থিত। তার মানে এ নয় যে মসজিদটি তাদের। আমার বাবা, দাদাসহ তাঁদেরও পূর্ব পুরুষ এ মসজিদে নামাজ আদায় করে গিয়েছেন। সবাই জানেন মসজিদটি গ্রামবাসী সকলের। একক কোনো গোষ্ঠীর নয়। হঠাৎ করে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রওশন খান সাগর গত শুক্রবার মসজিদটি তাদের বাড়ির মসজিদ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। যা দেখে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়টির সঠিক মিমাংসা না হলে যে কোনো সময় একটি ঝগড়া বেধে যেতে পারে। এজন্য স্থানীয় ভমবমি বাজার পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ সিতু মিয়াকে অবহিত করেছি। তাকে অনুরোধ করেছি, তার মধ্যস্থতায় যেনো সাগর খান সাহেব পোস্টটি এডিট করে নেন। কমপক্ষে ৪/৫ বার বলার পরও সাগর খার তার পোস্ট এডিট করেন নি। এ ছাড়া এ বিষয় নিয়ে তার নিকটাত্মীয় প্রবাসে থেকেও আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের দেওয়ালে নাম হিসেবে উল্লেখ আছে ছয়হাড়া পুরাতন কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ। এ নিয়ে কথা হয় ছয়হাড়া গ্রামের একাধিক ব্যক্তিদের সাথে। তাঁরা জানান, তাঁদের কেউই জানেন না মসজিদটির নাম ছয়হাড়া পাঠানবাড়ি জামে মসজিদ। তাঁদের বাবা-চাচারাও এ মসজিদে এবাদত বন্দেগি করে গিয়েছেন। তারা মসজিদটি পঞ্চায়েতি মসজিদ বলেই জেনেছেন, এখনো জানেন।
পাঠানবাড়ির প্রবীণ মুরব্বি, রওশন খান সাগরের চাচা মুহিম খাঁন (৬০) ও যুবক হুমায়ূন খান বলেন, আমরা জানি মসজিদটি পঞ্চায়েতি। কারো গোষ্ঠী বা গোত্রের নয়। মসজিদের নাম ছয়হাড়া পুরাতন কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ। পাঠানবাড়ি জামে মসজিদ নয়। সাগর খান কেনো এমন লিখলেন সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
সিতু মিয়া বলেন, আমাকে রায়হান কবির জানানো পর সাগর খানকে পোস্টটি সংশোধন করে নেওয়ার অনুরোধ করেছি। তিনি প্রথম দু’বার পোস্ট সংশোধন করবেন বলে আমাকে সম্মতি জানিয়েছিলেন। পরে তিনি সেই পোস্ট আর সংশোধন করেন নি। আমার জানা মতে, প্রকৃত পক্ষে মসজিদটি ছয়হাড়া পুরাতন কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ।
ছয়হাড়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা তঞ্জব আলী (৬০), এলখাছ মিয়া (৫৫), আবদুল আওয়াল, যুবক লিমন মিয়া, ইমরান হোসেন, আবদুল তাহিদ, সজীব আহমদ ও জোবায়ের আহমদ জানান, ছয়হাড়া পাঠানবাড়ি নামের কোনো মসজিদ আমাদের এলাকায় নাই। যে মসজিদটিতে একশ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা ইবাদত করে আসছি সেটার নাম ছয়হাড়া পুরাতন কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ। ফেসবুকে পাঠানবাড়ির মসজিদ দাবি করা উচিত হয়নি। এটি একটি বুনিয়াদি মসজিদ। যারা অযথা একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন তাদের সরে আসা উচিত।
ছালিক আহমদ নামের ছয়হাড়া গ্রামের এক সমাজকর্মী বলেন, আমার জানামতে, মসজিদটি পঞ্চায়েতি মসজিদ। পাঠানবাড়ি জামে মসজিদ বলে কোনো নাম নেই।
রওশন খান সাগর বলেন, আমি এতো কিছু চিন্তা করে পোস্ট করিনি। এখানে একাধিক মসজিদ আছে। স্পেসিফিক পরিচয় দিতে ছয়হাড়া পাঠানবাড়ি জামে মসজিদ লিখেছি। এর বেশি কিছু না।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমাদের নজরদারি আছে। কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেবো।