কোটি টাকার বালু তুলে বিক্রয়ের অভিযোগ/ বালুভর্তি ৭টি নৌকা জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরের মাহারাম নদী থেকে প্রতিদিন ভোর রাতে কোটি কোটি টাকার বালু তুলে বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে সংবাদ পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা শান্তিপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাহারাম নদী থেকে বালুভর্তি ৭টি নৌকা জব্দ করে।
বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটককৃত নৌকার মালিকদের বলা হয়েছে তাদের নৌকায় উত্তোলিত বালু পুনরায় নদীতে ফেলে খালি নৌকা নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বালু উত্তোলনকারী প্রতিটি নৌকার কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চাঁদাবাজরা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। সম্প্রতি টাস্কফোর্সের অভিযানে অবৈধভাবে মাহারাম নদী থেকে উত্তোলন করা স্থানে স্থানে স্তুপাকৃত বালু জব্ধ করা হয়। জব্দকৃত বালু গত ২৮ আগস্ট তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে ১২ লাখ ১২ হাজার ৫শ’ টাকায় এই বালু নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামে সর্ব্বোচ্চ ডাককারী হিসাবে ডাক পান মাহারাম নদীরপাড়ের শান্তিপুর গ্রামের ফজলুল। ফজলুল হক নিলামের টাকা পরিশোধ করলেও নিলামের বালু ওখান থেকে এখনো সরিয়ে নেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ নিলামের বালুর অজুহাতে তাহিরপুরের মাহারাম নদী থেকে প্রতিদিন ভোরবেলা মাহারাম নদী থেকে কোটি কোটি টাকার বালু তুলে বিক্রয় হচ্ছে।
মাহারাম নদীপাড়ের বাসিন্দা উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবু তাহের বলেন, বালু উত্তোলনকারী শ্রমিকরা তাকে জানিয়েছে শান্তিপুর গ্রামের ফজলুল হক, মিস্টার মিয়া, দ্বীন ইসলাম, পুরানঘাটের আক্কাছ আলী ও আমতৈলের শিপলু ৫ জনে মিলে মাহারাম নদী ইজারা এনেছে বলে তারা বালু নৌকা থেকে টাকা উত্তোলন করে।
বালু নৌকা থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে শান্তিপুর গ্রামের মিষ্টার মিয়া বলেন, আমি অবশ্য নদী পাড়ে থাকি। তবে টাকা কে তুলে আমার জানা নেই। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বাদাঘাট ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ৭টি বালুর নৌকা জব্দ করেছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবির বলেন, মাহারাম নদী থেকে বালু তোলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে সম্প্রতি মাহারাম নদীতে জব্দকৃত বালু নিলাম ডাককারী ফজলুল হক মিয়া টাকা পরিশোধ করলেও দখলনামা এখনো নেয়নি।