সাম্রাজ্যবাদের অবসান ছাড়া মুক্তি নাই

স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক বলেছেন, আমাদের বাণিজ্যের ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার। ৪৬ বছরে ৮৮ লক্ষ কোটি কালো টাকায় পরিণত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদের শোষণ শাসন অবসান করে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন না হলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।
শনিবার বেলা ১১টায় জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এনডিএফ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির চতুর্থ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চা শ্রমিকরা শুধু তাদের মজুরি থেকে বঞ্চিত নয়। তারা জাতিগত পরিচয় থেকে বঞ্চিত, নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত, ভাষা থেকে বঞ্চিত। আজকে গার্মেন্টসে নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন তদারকি করে। কিন্তু চা শ্রমিকদের পাশে কেউ নেই।
তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর জমিদার জমিদারি হারানোর ফলে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। সে সময় জমির অধিকার সাধারণ মানুষের মাঝে দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে জমিদার ক্ষতিপূরণ পেলেও সাধারন মানুষ তার অধিকার পায়নি।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক রত্নাংকুর দাস জহর’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবীর বলেন, মূল্য বৃদ্ধির পূর্বেও কৃষি উৎপাদনের খরচ ও উৎপাদিত ফসলের মূল্যের কোন সামঞ্জস্য ছিল না। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত কৃষক লোকসান দিয়ে আসছিল। আর লোকসান দেয়ার কারণে ধনী কৃষক মাঝারি কৃষকে এবং মাঝারি কৃষক দরিদ্র কৃষকে এবং দরিদ্র কৃষক ভূমিহীন কৃষকে পরিণত হচ্ছে। তার উপর হঠাৎ করে ডিজেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদন খরচ যে জায়গায় এসেছে তাতে কৃষক কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে না। এখন উৎপাদিত ফসলের যে দাম হবে তা সাধারণ মানুষের আওতার বাইরে চলে যাবে। বর্তমানে চালের কেজি ৬০-৭০ টাকা।
তিনি বলেন, সত্তরের দশকে চাষযোগ্য জমি ছিল ৩ কোটি ২০ লক্ষ হেক্টর। জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটির মতো। ২০২২ সালে এসে কৃষি জমি ৭০ লক্ষ হেক্টরেরও কম। জনসংখ্যা বাড়ছে কিন্তু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাণিজ্যিক অঞ্চলের নামে, শিল্প পার্কের নামে, অপরিকল্পিতভাবে নানা স্থাপনা নির্মাণ করে কৃষি জমি সংকোচিত করা হচ্ছে। প্রতিবছর আমাদের চার কোটি টন খাদ্য শস্য লাগে। কিন্তু বাংলাদেশে মাত্র ২ কোটি ৯০ লক্ষ টনের মতো উৎপাদন হয়। ১ কোটি টনেরও বেশি খাদ্য ঘাটতি। অথচ এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার সরকার খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতার গল্প করছে। আবার প্রত্যেক সরকারের আমলে বিদেশ থেকে চাল, গম সহ অন্যান্য খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এখনই যদি আমরা সচেতন হয়ে ঐক্যবদ্ধ না হতে পারি তাহলে দেশ স্থায়ী দুর্ভিক্ষের দেশে পরিণত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা এনডিএফ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ই ইউ শহিদুল ইসলাম শাহীন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, সরকার জনমুখী পদক্ষেপের পরিবর্তে ভারতমুখী ভূমিকা রাখছে। তিনি গুম, খুন, অর্থপাচার ইত্যাদির কারণে দেশের রাজনীতি অর্থনীতির ভয়ানক অবনতি রোধে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টকে তিনি শক্তিশালী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
এনডিএফ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল আলম ছদরুল’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি শহিদ সাগ্নিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহিন আলম, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রজত বিশ্বাস, সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি নিরঞ্জন তালুকদার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আহবায়ক মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা জ্বালানী তেলের দাম সহ নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
এর আগে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি চত্ত্বরে জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। এরপর একটি র‌্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এসে সভায় মিলিত হয়। সভার শুরুতে কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র।
এদিকে বিকালে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন রত্নাংকুর দাস জহর এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সাইফুল আলম ছদরুল।
এছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহ সভাপতি বাদল সরকার, আমির উদ্দিন, নিরঞ্জন তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ রূপাংকর দাস রিন্টু, সহ সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আইনুল হক, প্রচার সম্পাদক মনির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিনন্দ কর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শুভ তালুকদার, যুব বিষয়ক সম্পাদক আবু সাদাত হোসেন টিটু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক দীপ্তি রানী সরকার, সদস্য লিলু মিয়া, নূর উদ্দিন আহমদ, ফিরোজ আলম, আব্দুল হাই, শাহ আলম, সিরাজ মিয়া, নাসির মিয়া, কাদির মিয়া, ফরিদ মিয়া, নজরুল ইসলাম, আয়ুবুর রহমান, আব্দুস সালাম, তাহের মিয়া, শামছুল আলম, নেহাল, তাজুল ইসলাম।