বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে জড়ো হন ভক্ত অনুরাগীরা

দিরাই সংবাদদাতা
দিরাইয়ের উজানধলে পালিত হলো বাউল শাহ আবদুল করিমের ১৩তম প্রয়াণ দিবস। সোমবার দুপুর থেকে বিরূপ আবহাওয়া উপক্ষো করে বাউল সম্রাটের উজানধলের বাড়িতে জড়ো হন হাজারো ভক্ত বাউলরা। বাউল শাহ আবদুল করিম পরিষদ ও ধলগ্রামবাসীর উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা থেকে চলে বাউল আসর। দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে বাউল শিল্পী গবেষক ও লোকগান প্রিয় মানুষেরা এসেছেন উজানধলে।
শাহ্ আবদুল করিমের একমাত্র ছেলে বাউল শাহ আবদুল করিম পরিষদের সভাপতি নূর জালাল বললেন, বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন আমরা ছোট পরিসরে করে থাকি। তবুও বাউলশিল্পী ও হাজার করিম অনুরাগীর আগমন ঘটে বাড়িতে। এসময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শাহ আবদুল করিম মিউজিয়ামের মেরামতে সরকারের সহযোগিতা প্রার্থনা করেন শাহ নুরজালাল।
এদিকে সন্ধ্যা ৬টায় দিরাই উপজেলা খেলাঘর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ্বজিৎ রায় বলেন, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের নামে চত্বর করার চিন্তাভাবনা আছে। পৌর সদরের থানা পয়েন্টে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর বা শাহ আব্দুল করিম চত্বর করার চিন্তাভাবনা আমরা করছি।
তিনি বলেন, আমাদের পৌর কার্যালয়ে আমরা লাইব্রেরি করার চিন্তাভাবনা করছি। সেখানে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের বইগুলো রাখা হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. রিপা সিনহা, খেলাঘর দিরাই উপজেলা কমিটির সভাপতি সুধাসিন্ধু দাশ রানা, সহ সভাপতি জিয়াউর রহমান লিটন, লালবাঁশী দাস, সাধারণ সম্পাদক প্রাশান্ত সাগর দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক হিল্লোল পুরকায়স্থ, দিরাই সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম,ক্রীড়া ও শরীরচর্চা বিষয়ক সম্পাদক সদরুল ইসলাম, আফাজ মিয়া, প্লাবন দাশ, ঝুটন সূত্রধর, কৃষ্ণ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, বাউল শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফ্রেবুয়ারি ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আজীবন শিল্পী সংগ্রামী, মানবতাবাদী বাউল শাহ্ আবদুল করিম ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।