স্টাফ রিপোর্টর
সুনামগঞ্জ পিটিআইয়ের সামনে গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) না থাকায় প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাই উদ্বিগ্ন থাকেন অভিভাবকরা। সম্প্রতি একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে এখানে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য লিখিতভাবে গতিরোধক করে দেবার জন্য একাধিকবার আবেদন করলেও স্পিডব্রেকার দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় পিটিআইয়ের প্রবেশ গেটের সামনে গতিরোধক করে দেওয়ার জন্য সুনামগঞ্জ পিটিআই সুপার একাধিকবার লিখিত আবেদন করেছেন। সর্বশেষ গত ৬ ডিসেম্বর পিটিআই সুপার মো. জসিম উদ্দিন সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পিটিআইয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় চার শতাধিক শিক্ষক নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পিটিআই ক্যাম্পাসে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। এই প্রতিষ্ঠানটি মূল সড়কের পাশে হওয়ায় সড়ক অতিক্রম করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পিটিআই ও পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। যানবাহনে ব্যস্ত সড়কটি পারি দিতে গিয়ে প্রতিদিনই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছেন। তাই জরুরি ভিত্তিকে গতিরোধক স্থাপন প্রয়োজন। এভাবে একাধিকবার আবেদন দেওয়া হলেও গতিরোধক নির্মাণে কোন উদ্যোগ নেয়নি সড়ক বিভাগ।
গত ৩১ আগস্ট প্রথম শিফটের ক শাখার প্রশিক্ষণার্থী নারী শিক্ষক আছিয়া খাতুন দুর্ঘটনায় পড়েন। ব্যস্ত সড়কে বিপুল যানবাহন এড়িয়ে সাবধানে পাড়ি দিতে গিয়েও তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি বলে জানা গেছে।
পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক শহরের আরপিননগরের বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফর রহমান শমছু বলেন, আমি আমার নাতনিদের নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসি। স্কুলে আসার পথে পিটিআইয়ের সামনে সড়ক পেরিয়ে দিয়ে স্কুলে প্রবেশ করতে অনেক সাবধান থাকতে হয়। অনেক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের সাথে আসেন না। ফলে তারা ব্যস্ত সড়ক পাড়ি দিতে গিয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে। এখানে জরুরি ভিত্তিতে স্পিডব্রেকার তৈরি করা উচিত। আমরা অভিভাবকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার বলার পরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পিডবেৃকার দেওয়া হচ্ছেনা। অথচ অগুরুত্বপূর্ণ ও অপ্রয়োজনীয় স্থানেও স্পিডব্রেকার দেখা যায়।
সুনামগঞ্জ পিটিআইয়ের সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমি আসার পর পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্পিডব্রেকার করে দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছি। এখনো কোন সাড়া পাইনি।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং বলেন, কাছকাছি ডিসি অফিসের সামনে একটি স্পিডব্রেকার আছে। যে কারণে এখানে করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে এখানে যেহেতু কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে তাই তাদের বিষয়টি আমরা ভেবে দেখব।
- শান্তিগঞ্জে বন্দোবস্তকৃত জায়গায় পথ দখলের অভিযোগ/ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হোক
- জগন্নাথপুরে পৌর বিএনপির বিক্ষোভ


