স্টাফ রিপোর্টার ও শান্তিগঞ্জ অফিস
সুনামগঞ্জে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, সরকার এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক চাপে আছে। এই চাপ ধীরে ধীরে কমে আসছে। একটি মহল চাইছিল যেন চাপ না কমে। তারা শেখ হাসিনাকে হঠাতে চায়। শেখ হাসিনা দেশের মানুষের ভোটে সরকার প্রধান। তাঁকে হঠানোর ক্ষমতা দেশের জনগণ ছাড়া আর কারো নেই। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নেবার জন্য দেশের মর্যাদা বাড়ানোর জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে।রবিবার বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জ বিজিবির ২৮ ব্যাটেলিয়নের মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নতুন বছরে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ভালো হবে। দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোগ্যপণ্য দেশের মানুষের প্রয়োজন যখন যা লাগবে বিদেশ থেকে আমদানী করা হবে।
বিজিবি রিজিয়ন সদর দপ্তর সরাইল’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বললেন, বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য বিজিবি সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবিই হবে প্রথম ফোর্স। যারা প্রথম শত্রু মোকাবিলা করবে। এরজন্য আমরা প্রস্তুত আছি। সীমান্তকে সুরক্ষা দেবার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তা করছি, ভবিষ্যতেও করে যাবো।
অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ্, সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান সহ বিজিবির উত্তর পূর্ব রিজিয়ন ও সিলেট সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন সময়ে মালিকবিহীন আটক প্রায় ১২ কোটি টাকার মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
ব্যাংককে টাকা নেই বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে
দেশকে বিশৃঙ্খল করতে ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি বলেন, অসত্য প্রচার করে কিছু মানুষ বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করতে চায়। কিছুদিন আগে গুজব ছড়িয়েছিল ব্যাংকে টাকা নাই। কি ভয়ংকর ষড়যন্ত্র। যদি সকল ব্যাংকে মানুষ হাজির হয়ে যেতো তাহলে সংস্থাগুলো ধ্বংস হয়ে যেতো। কিন্তু মানুষ যায় নাই। মানুষের বিশ্বাস ছিল শেখ হাসিনার প্রতি, বিশ্বাস ছিল সরকারের প্রতি।
শনিবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার এফআইভিডিবির ট্রেনিং সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সাজেদা ফাউন্ডেশন আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আইন সবার জন্য সমান। তাই দেশের সকল মানুষকে আইন কানুন মেনে কাজ করতে হবে। কোনো সংঘাত নয়, বিবাদ নয়। এতে দেশের ক্ষতি হবে। সমাজে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সরকার উন্নয়ন করতে পারবে না, এনজিওরাও পারবে না।
তিনি বলেন, ব্যাংকে টাকা গায়েব হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই, দরিদ্র মানুষ না খেয়ে মরবে না। মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে খেয়েও মানুষ উন্নতি করছে। এসময় সরকারিভাবে জলাশয়ের ইজারা প্রথাও তুলে দেয়ার পক্ষে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিল ইজারা দেয়া হয়। গরিব মানুষ টেংরা ও পুঁটি মাছ খেতে পারে না। ইজারা প্রথা উঠিয়ে দেয়া উচিত, এটি আমার মতামত। যদিও সরকার যা করেছে তা মানতে আমরা বাধ্য।
এসময় সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদা ফিজ্জা কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার উজ জামান, সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহমদ নুর প্রমুখ।


