স্টাফ রিপোর্টার
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনারের তিন কর্মকর্তা শনিবার সুনামগঞ্জের শ্যামারচর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় ১৯৭১ সালে দিরাইয়ের পেরুয়া—শ্যমারচরে গণহত্যাস্থল ঘুরে দেখেন। ওই সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের খেঁাজ খবর নেন তাঁরা। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার স্বাক্ষীদের কোন অসুবিধা হচ্ছে কী না সেটিও জিজ্ঞেস করেন। বিকালে তাঁরা ঢাকায় ফিরে যান।
১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর (১৭ অগ্রহায়ণ) দিরাই উপজেলার পেরুয়া—শ্যামারচরবাসীর জন্য ভয়াবহ দিন ছিল। এই দিনে পেরুয়া—শ্যামারচরের ২০ জন নিরীহ বাঙালি গণহত্যার শিকার হন এবং কমপক্ষে ২০ জন নারী নির্যাতনের শিকার হন। কয়েক’শ ঘরবাড়িতে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এটিই সবচেয়ে লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ ছিল।
এই ধংসযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এলাকার সভ্রান্ত পরিবার হিসাবে পরিচিত ‘পেরুয়া বড়বাড়ি’। পেরুয়া বড়বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দেওয়া হয়েছিল। এই গণহত্যা এবং পৈশাচিক নির্যাতনের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষীরা জীবিত থাকায় এই ঘটনার বিচার কার্যক্রম। এই এলাকার ৬ জন নির্যাতিতা নারী ইতিপূর্বে বীরাঙ্গনার সম্মান পেয়েছেন। এরমধ্যে ৫ জন পাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় ভাতাও। একজনের ভাতা পাবার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
এঁরা হলেন— পেরুয়া গ্রামের শহীদ গুঞ্জর আলী’র (পাক হায়েনার দোসর রাজাকারদের হাতে নিহত) স্ত্রী কুলসুম বিবি। তিনি ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরঙ্গণার স্বীকৃতি পান। একই গ্রামের ব্রজেন্দ্র দাস’এর (যার বুকের পাশ থেকে রাজাকারদের ছুঁড়া গুলি যুদ্ধের ৪৩ বছর পর বের করা হয়) স্ত্রী প্রমিলা দাস, তিনি ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরঙ্গণার স্বীকৃতি পান, উজানগাঁওয়ের আলকাছ মিয়া’র স্ত্রী জমিলা বেগম, তিনি ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরঙ্গণার স্বীকৃতি পান, একইগ্রামের কাছন মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরঙ্গণার স্বীকৃতি পান ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর, একইগ্রামের মুক্তার আলীর স্ত্রী মুক্তা ভানু রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরঙ্গণার স্বীকৃতি পান ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর। পেরুয়া গ্রামের শহীদ উপেন্দ্র কুমার রায়ের স্ত্রী গীতা রানী রায়ও গেল বছর নভেম্বরে বীরাঙ্গণার স্বীকৃতি পান। আরও একজনের বীরঙ্গণার স্বীকৃতি দেবার বিষয়টি প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
নিজের বাবা—কাকাসহ স্বজনরা এই নির্মম হত্যাযজ্ঞে খুন হয়েছেন দাবী করে প্রায় পাঁচ বছর আগে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন পেরুয়ার মুক্তিযোদ্ধা রজনী কান্ত দাস।
তাঁর এই অভিযোগ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়। পরে জীবিত যুদ্ধাপরাধী ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
এই মামলার ৬ আসামী উজান দৌলতপুরের আব্দুল খালেকের ছেলে আমেরিকা প্রবাসী জুবের আহমদ, শ্যামারচরের ইমাম জলিল, আব্দুর রশিদ, শাল্লা উপজেলার সুলতানপুরের জাকির হোসেন, একই উপজেলার শশারকান্দার সিদ্দিক মাস্টার, দৌলতপুরের তোতা টেইলার্স কে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আটক করে পুলিশ। এই ৬ জনই কারাগারে আছে।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। মামলার স্বাক্ষী গ্রহণ শুরু হয়েছে। স্বাক্ষী গ্রহণ শেষ হলে আদেশের পর্যায়ে চলে যাবার কথা।
শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধের ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়ক এম সানাউল হক, তদন্তকারী কর্মকর্তা এডিশনাল এসপি শাহাজাহান কবির ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এডিশনাল এসপি নূর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পাকহায়েনা ও তাদের দোসরদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং মামলার স্বাক্ষীদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
শ্যমারচরের বাসিন্দা রাজনীতিবিদ অমর চাঁদ দাস জানান, তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তরা ছাড়াও এলাকার বিশিষ্টজনদের সঙ্গে তহশিল অফিস চত্বরে মতবিনিময় করেছেন।
- আমনের বাম্পার ফলন সামঞ্জস্য নেই ধানের সঙ্গে চালের দামের
- নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হলেন কবির বিন আনোয়ার


