আগামী ১ বৈশাখ থেকে অনলাইনে ভূমিকর পরিশোধের ব্যবস্থা চালুর একটি ভালো ঘোষণা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ওই তারিখ থেকে ম্যানুয়ালি ভূমিকর আদায় বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বিএসআরএফ সংলাপ নামক একটি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত ভূমি মালিকদের স্বস্তি এনে দিবে বলে আমাদের বিশ্বাস। প্রচলিত পদ্ধতিতে বহু ভূমি মালিক সংশ্লিষ্ট অফিসে এসে নানাবিধ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হন। ভূমিকর পরিশোধ করতে উৎকোচ প্রদানের ঘটনাও নৈমিত্তিক। এরকম প্রেক্ষিতে অনলাইনে ভূমিকর পরিশোধের ব্যবস্থাটি হতে পারে এই খাতের বিশাল বিস্তৃত দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার একটি ভালো উদ্যোগ। আমরা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানাই এবং ১ বৈশাখ থেকেই যাতে সারা বাংলাদেশে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয় তার আহ্বান জানাই। তবে এতদ্বিষয়ে বহুল প্রচার প্রচারণার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ ভূমি মালিক গ্রামে বসবাস করেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ ডিজিটাল ব্যবস্থার খঁুটিনাটি বিষয়ে সেইভাবে পারদর্শী নন। ব্যবস্থাটি চালুর শুরুর দিকে ভূমি মালিকদের এই ব্যবস্থায় খাপ খাওয়াতে হয়তো কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তখন তাঁরা যাতে উপযুক্ত পরামর্শ ও সহায়তা পান সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য অনলাইনে ভূমিকর পরিশোধে প্রক্রিয়াগুলো সহজবোধ্য ভাষা ও কনটেন্টের মাধ্যমে বেশি বেশি প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার প্রসার একটি উপযুক্ত উপায়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এর সুফল দেখেছি। যে পাসপোর্ট অফিস একসময় দালাল আর ঘুষের রাজ্য ছিলো ডিজিটাল ব্যবস্থায় রাতারাতি তার চমকপ্রদ পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ আবেদন করা হলে কোনো বিলম্ব ও হয়রানি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট পাওয়া যায়। দুর্নীতি রোধের একটি অন্যতম উপায় হলো সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ করা। ডিজিটাল ব্যবস্থায় কেউ কারও চেহারা না দেখেই সংশ্লিষ্ট সেবা দিতে ও পেতে পারেন। সরকার সেই দিকেই এগোচ্ছে। তবে গতি মন্থর। এই গতি আরও বাড়াতে হবে। ভূমি বিষয়কই জমি রেজিস্ট্রি পদ্ধতিকে এখন পর্যন্ত ডিজিটাল করা যায়নি। ভূমিমন্ত্রী বলেছেন, জমি রেজিস্ট্রির বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় তিনি সেখানে কিছু করতে পারছেন না। তিনি জমি রেজিস্ট্রেশনের নিয়ন্ত্রণ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার পক্ষপাতী। সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে বহুল বিস্তৃত দুর্নীতির খবর সকলের জানা। এখানে কেউ কোনো কিছু করতে পারছেন না। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই জায়গায় ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের যেকোনো উদ্যোগকে আঁতুড়ঘরেই মেরে ফেলার আয়োজন করে। অথচ সকলের দাবি জমি রেজিস্ট্রি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার। আমরা আশা করব সরকার বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিবেন। দুর্নীতিগ্রস্ত আরেকটি জায়গা হলো সেটেলম্যান্ট বিভাগ, বিশেষ করে এদের মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা ভীষণভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। এদের দুর্নীতিপ্রবণতার কারণে প্রকৃত ভূমি মালিকরা অনেকটা দিশেহারা। মাঠ জরিপ, এটাস্টেশন প্রভৃতি পর্যায়ে মানুষদের হেনস্তা হওয়ার দৃশ্য দেখে মনে হয় না এই বিভাগটি সরকারের আওতাধীন কোনো দপ্তর। এরা এক ধরনের দায়মুক্তি ভোগ করে বলে দেখা যায়। সেটেলম্যান্ট অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের যাবতীয় কাজকেও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা ভীষণ জরুরি।
সম্প্রতি সরকার কিছু উপজেলায় জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারিকে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত বিষয় হিসাবে গণ্য করে রেজিস্ট্রির সময়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি করার একটি ব্যবস্থার প্রচলন করেছেন। এটিও ভালো উদ্যোগ। জমি রেজিস্ট্রির পর ক্রেতা ক্রয়কৃত জমির বৈধ মালিক হন। তখন রেকর্ডে পূর্বতন মালিকের নাম খারিজ করে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভূক্ত হওয়া একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি হওয়ারই কথা।
দুর্নীতি ও হয়রানি প্রতিরোধে ডিজিটাল ব্যবস্থাই হোক প্রধান হাতিয়ার।
- লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা/ সুন্দর -সুবর্ণ-তারুণ্য-লাবণ্য-অপূর্ব…
- আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তাহিরপুর উপজেলা কমিটি গঠন


