জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের পৌর এলাকার আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণ দাবি করে পৌর পয়েন্টে মানববন্ধন করে।
এর আগে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ২৪ জন শিক্ষার্থী গত ১৪ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে দেখা করে লিখিতভাবে এ বিষয়ে অভিযোগ করে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা কে নারী ও অর্থ কেলেংকারির অভিযোগে চাকুরি থেকে অপসারণ করা হয়। ২০২০ সালের ১২ জুন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সফিকুল আহমেদ ভূঁইয়া মৃত্যুবরণ করলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁর ভাই রফিকুল আহমেদ নতুন সভাপতি মনোনীত হন। এরপর নতুন কমিটি নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে সাবেক সকল সদস্যর স্বাক্ষর নকল করে তাকে প্রধান শিক্ষক পদে পুনবহাল করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক অভিভাবক সদস্য নুর আলম বলেন, নারী ও অর্থ কেলেংকারির অভিযোগে চাকুরি থেকে অপসারণ হওয়া প্রধান শিক্ষক কে আবারও জালিয়াতি করে বহাল করায় আমরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
আরেক সাবেক সদস্য রুবেল মিয়া বলেন, ওই প্রধান শিক্ষক আবারও বিদ্যালয়ে এসে যৌন হয়রানিমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন। গত ২৯ আগস্ট এরকম একটি অভিযোগ ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাকে অপসারণ করা দরকার।
বিদ্যালযের সহকারী শিক্ষক সুহেল আহমেদ বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক কার্যক্রমের প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষককে জোর করে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আমাকেও বিদ্যালয়ে না যেতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক কার্যক্রমে বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা খুবই লজ্জিত। নিরুপায় হয়ে এক সপ্তাহ আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি। তাই মানববন্ধন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলে এসব মিথ্যাচার করছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করছি।


