সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের এপিএস ফারুককে দল থেকে বহিস্কারের সুপারিশ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের এপিএস অ্যাড. ওমর ফারুক তালুকদারকে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কারের দাবি ওঠেছে। গত বুধবার দুপুরে স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় ওমর ফারুক তালুকদারকে বহিস্কারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
ওমর ফারুক তালুকদার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম তালুকদার ওরফে আল্লাদ মিয়া তালুকদারের ছেলে। ফারুক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। তিনি সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সাবেক এপিএস থাকার সুবাদে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ লাভ করেন। ২০১৭ সালের ১৪ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় ছয় মাসের মতো কারাগারে ছিলেন ফারুক। ওই ঘটনায় তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় কারাগারে থাকাবস্থায় ব্লগার-লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি আনসার আল ইসলামের শীর্ষ জঙ্গি সোহেলের পরিচয় হয়। এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল ফারুক প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই সোহেলের বোন তানজিলাকে বিয়ে করেন। গত ২০ নভেম্বর ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে জঙ্গি সোহেল ও শামীমকে ছিনিয়ে নেয় তাদের সঙ্গীরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওমর ফারুক, তাঁর স্ত্রী তানজিলাসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সানি ওমর ফারুকের ভাতিজা। বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে। জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস বলেন, ‘ওমর ফারুকের চাচাতো ভাই আব্দুল হাই তালুকদার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল সানি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আব্দুল্লাহ আল জায়েদ প্রিয়াম ছাত্রলীগ কর্মী এবং আরেক চাচাতো ভাই মিল্টন ও পিয়াস কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং বিএনপি ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। তাই ওমর ফারুক তালুকদার, আব্দুল হাই তালুকদার, আব্দুল্লাহ আল সানি, আব্দুল্লাহ আল জায়েদ প্রিয়ামকে দল থেকে স্থায়ী বহিস্কারের জন্য জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।’