প্রযুক্তির সুবিধার সাথে কিছু বিড়ম্বনাও আছে। অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ইদানীং ডিজিটাল প্লাটফরম ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ব্যাংক হিসাবগুলো অনলাইনভিত্তিক হয়ে উঠেছে। ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড তো আছেই, এখন ব্যাংক লেনদেন বিএফটিএন প্লাটফরমেও যথেষ্ট পরিমাণে হচ্ছে। এছাড়া বিকাশ, নগদ, রকেট প্রভৃতি মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে প্রচুর লেনদেন হয়ে থাকে। এতে মানুষের অর্থ লেনদেন অনেক সহজ হয়ে গেছে, সময় ও খরচেরও সাশ্রয় হচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের এই ব্যাপকতার সাথে বেড়ে গেছে এসব খাতে নানা ধরনের অপরাধবৃত্তি। প্রায়শই নানাভাবে বহু লোক প্রতারিত হচ্ছেন বলে দেখা যায়। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জেলায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সূত্রে বেশ কয়েক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়।
আলোচ্য সংবাদ বিশ্লেষণ করে যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সচেতনতার অভাবের কারণেই প্রতারকরা সুযোগ করে নিচ্ছে। একজন প্রধান শিক্ষকের প্রতারিত হওয়ার ঘটনা প্রকাশ হয়েছে প্রতিবেদনে। তিনি অচেনা এক ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে তার ফাঁদে পড়ে যান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচয় দিয়ে এক প্রতারক এই প্রতারণাকা-ের সূচনা ঘটায় যাতে পরে আরও দুই ব্যক্তি ভূমিকা রেখেছে। বিদ্যালয়ের অনুদানের চার লাখ টাকার চেক তৈরি হয়েছে বলে ওই প্রতারক তাঁকে জানায়। এবং তার কথামত তিনি পরবর্তী সূত্রগুলোর সাথে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রতারকচক্রের কথা মত ২৪ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান। এরপর তিনি প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। আমাদের কথা হলোÑ বিদ্যালয়ের জন্য কোনো অনুদানের চেক আসলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আসবে, তিনি অবহিতকরণ পত্রও প্রাপ্ত হবেন। অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনুদান আসলেও সেই টাকা নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে জমা হবে। তিনি কেন এক অচেনা ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস স্থাপন করতে গেলেন? একজন সচেতন ও শিক্ষিত ব্যক্তি হয়ে এই ফাঁদে পা দেয়া তাঁর কাছ থেকে কাম্য ছিলো না। প্রতারকরা সাধারণত কথাবার্তায় খুব চতুর থাকে। এরা কথার মারপ্যাঁচে লক্ষ্যবস্তুকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। এমন নয় যে এরকম ঘটনা এই প্রথম ঘটল। প্রধান শিক্ষকের নিশ্চয়ই এরকম প্রবণতা অজানা নয়। তারপরেও তিনি সরল বিশ্বাসে প্রতারকদের কথামত টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। সংবাদে প্রকাশিত প্রতারণাকা-ের অন্য ক্ষেত্রগুলোতে প্রতারকরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিকাশ হিসাবের গোপন পিন নম্বর জেনে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে বুঝা যায়। তারা প্রতারিত ব্যক্তিকে কথার মায়াজালে জড়িয়ে তাদের নিকট থেকে বিকাশ হিসাবে ঢোকার গোপন নম্বর জেনে নেয়। এটাও অসচেতনতার কারণেই ঘটেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে বারবার প্রচার করা হয় মোবাইল ব্যাংক হিসাবের পিন নম্বর বা অন্যকিছু দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তিকে না জানানোর জন্য। তবু অনেকেই এই ভুলটি করছেন।
এই ধরনের প্রতারণা ঘটার অন্যতম কারণ অবৈধ মোবাইল সিমের সহজলভ্যতা। প্রতারকরা কোনো না কোনো মোবাইল নম্বর থেকে যোগাযোগ করে। দেখা যায় ঘটনা ঘটার পর এসব সিম বন্ধ করে দেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে এইসব মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারীর কোনো হদিস পাওয়া যায় না। কোনো ধরনের গ্রাহক পরিচয় নিশ্চিতকরণ ছাড়াই মোবাইল কোম্পানিগুলো মুড়ি মুড়কির মতো সিম বিক্রি করছে। যে কারণে প্রতারকরা অধরা থেকে যেতে পারছে। যদি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য পরিচয় নিশ্চিতকরণ দলিল যাচাই বাছাই করে সিম বিক্রি এবং সিমগুলো যথাযথভাবে নিবন্ধিত থাকত তাহলে প্রতারকদের ধরা খুব কঠিন হত না। তাই মোবাইল কোম্পানিগুলোকে সিম বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যই দায়বদ্ধতার জায়গায় আনতে হবে। এরূপ ক্ষেত্রে যে কোম্পানির সিম ব্যবহার করে প্রতারণা সংঘটন করা হয়, যদি ওই সিমের মালিকের কোনো অস্তিত্ব না থাকে; তাহলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোম্পানির বিরুদ্ধেও কঠোর হতে হবে।
- টেস্ট ক্রিকেটে দেশের পক্ষে সেরা র্যাংকিং অর্জন করলেন লিটন
- শীতে জবুথবু হাওড়পাড়ের মানুষ/ এক কম্বলে চারজনের শীত নিবারণের চেষ্টা


