শান্তিগঞ্জে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় শীতের তীব্রতা যত বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ততই। কমিউনিটি ক্লিনিক, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন যা রোগী আসছেন তার অর্ধেকের বেশিই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের সংখ্যা উল্লেখ করার মতো। রোগীদের মধ্যে বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন সর্দি-কাশি-জ্বরে। শিশুদের প্রায় সকলেই আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায়। খুব বেশি গুরুতর রোগী না হলে অধিকাংশজনই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হচ্ছেন, বাকীদের যেতে হচ্ছে জেলা সদর কিংবা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের তীব্রতা বেড়েছে তাই এধরণের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বলা যেতে পারে এটি একটি মৌসুমী রোগ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সচেতন হতে হবে।
শান্তিগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পশ্চিম পাগলা ইউপি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইনাতনগর, শত্রুমর্দন, পশ্চিম বীরগাঁওয়ের ঠাকুরভোগ, পূর্ব বীরগাঁওয়ের সলফ ও পূর্ব পাগলার রনসী-বাদুল্লাহপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)’র সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৭০ জন রোগী স্বাস্থ্য সেবা নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগীই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। গত দুই সপ্তাহ থেকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় এসব এলাকায় ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউপি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও একই।
ইনাতনগর ও শত্রুমর্দন কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মো. জমির হোসেন ও ঠাকুরভোগ কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার গকুল পুরকায়স্থ বলেন, আমাদের এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ থেকে ৭০ জন রোগী আসেন। ইদানিং রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এদের মধ্যে ৩০ জনের বেশি রোগী ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বয়স্ক লোকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন সর্দি-জ্বরে। বেশি গুরুতর রোগীদের আমরা জেলা সদরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।
পশ্চিম পাগলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারি হুমায়ুন কবির বলেন, আমার এখানে প্রতিদিন অনেক রোগী আসেন। বেশিরভাগই ঠান্ডা রোগে আক্রান্ত। কারো ডায়রিয়া, কারো জ্বর-সর্দি। বয়স্ক ও শিশুরাই ঠান্ডায় আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জসিম উদ্দিন শরীফি বলেন, ঠান্ডা বেড়েছে। এখন রোগীর সংখ্যা বাড়বে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সচেতন থাকলেই ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ঠান্ডা থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তা না হলে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া হতে পারে। গুরুতর রোগীদের শিশু কিংবা বয়স্কদের অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। আমরাও যথেষ্ট সেবা দিচ্ছি। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমান ঔষধও রয়েছে। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে সবাইকে অবশ্যই গরম কাপড় পড়তে হবে। আগে থেকে যারা অসুস্থ্য তাদের গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। ঠান্ডা লাগলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ছবি ক্যাপশন
ঠান্ডাজনিত রোগবালাই বেড়েছে। আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। পশ্চিম পাগলা উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে রোগী দেখছেন কেন্দ্রের উপ-সহকারি হুমায়ুন কবির।