চাঁনপুর সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতীয় চুনাপাথর

তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুর সীমান্তের চাঁনপুর এলাকা দিয়ে চানপুর বিজিবি ক্যাম্পের কিছু সংখ্যক বিজিবি সদস্য ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত  বিনাশুল্কে ভারত থেকে লাখ লাখ টাকার চুনাপাথর নিয়ে আসছে একদল চোরাচালানী চক্র। চানপুর সীমান্তের নয়াছড়া, বারেকটিলা, রাজাইসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে অবাধে আসছে চুনাপাথর, মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আর এসবের বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচাঁর  হচ্ছে মাছ, মাংস, হাঁস, মুরগি, সিরামিকের আসবাপত্র, ভোজ্যতেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও মোবাইল কার্ড।
বুধবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্পের কিছু দূরেই নয়াছড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে চোরাচালানীরা অবৈধভাবে শ’ শ’ লোক ভারতের ভেতরে প্রবেশ করে হেমার, শাফলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দিয়ে লাখ লাখ টাকা মূল্যের চুনাপাথর টুকরো টুকরো করছে।  ভাঙ্গার কাজ শেষে টুকরো পাথরগুলো বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মজুদ করছে। মজুদকৃত চুনাপাথর হ্যান্ড ট্রলি দিয়ে চানপুর বিজিবি ক্যাম্পের সামনের রাস্তা দিয়ে পাশ্ববর্তী যাদুকাটা নদীর তীরে ও ছিলাবাজারে নিয়ে স্টিল বডি নৌকায় ভরাট করা হয়।
স্থানীরা জানান, উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য স¤্রাট মিয়ার নেতৃত্বে চানপুর বিজিবি ক্যাম্পের লাইনম্যান পরিচয় দিয়ে বেশ কয়েকজন চাঁদাবাজ প্রতি হ্যান্ডট্রলি চুনাপাথর ভারত থেকে নিয়ে আসার জন্য বিজিবি ক্যাম্পের নামে ১২০টাকা নেয়া হয় এবং ওয়ার্ড সদস্য স¤্রাট মিয়া নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রতি হ্যান্ডট্রলি গাড়ী থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছেন। তাকে টাকা না দিলেই বিজিবি অধিনায়নকে ফোন করে লাইন বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড সদস্য স¤্রাট মিয়া বলেন,‘আমি ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার, আমি চুনাপাথর থেকে টেকা খাইলে আপনাদের (সাংবাদিকের ) সমস্যা কি। আপনি সরেজমিনে আইসা দেখা করেন’ বলে তিনি মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।
নাম প্রকাশ না করে বেশ কয়েকজন জানান, চাঁনপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার হোসেন আলী নিজ হাতে চোরাচালানীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে ওপার থেকে চুনাপাথর, গরু ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাচারের সুযোগ করে দেন।