ধর্ষকের ঘর গুড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় জনতা

এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর থেকে
তাহিরপুর উপজেলায় হাওরে নির্জন বাড়ীতে আটক রেখে এতিম কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, যুব সমাজ ও স্থানীয়রা বাদাঘাট গার্লস স্কুলের সামনে নির্জন হাওরে থাকা ধর্ষক জসীম উদ্দিনের একটি টিনসেড ঘর গুড়িয়ে দিয়েছে । লম্পট জসীম উদ্দিনের ঘর গুড়িয়ে দেয়ার পর তার এক মেয়ে ও পরিবারের লোকজনকে বুধবার দুপুরে আলোচিত সেই বাড়িতে থাকা মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের একটি গ্রামের পিতৃহীন    ও মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের কাছে থাকা ১২ বছরের কিশোরীকে ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার কুনাট গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে আলমাস মিয়া নতুন জামাকাপড় কিনে দেয়ার কথা বলে গালর্স স্কুলের সামনের হাওরে থাকা নির্জন বাড়ীতে কুনাট গ্রামের মৃত বরজু মিয়ার ছেলে জসীম উদ্দিনের বাড়িতে নিয়ে যায়। ঐ রাতে ভগ্নিপতি আলমাসসহ ওই নির্জন বাড়িতে পর পর দু’রাত কমপক্ষে ৬ জন তাকে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের ৪দিন পেরিয়ে গেলেও ওই কিশোরীকে চিকিৎসাসেবা ও আইন সহায়তা নিতে দিচ্ছিল না ধর্ষণকারীরা।
বিষয়টি থানা পুলিশ জানতে পেরে ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার ও মূলহোতা লম্পট ভগ্নিপতি আলমাসকে গ্রেফতার করে।
এ ব্যাপারে শুক্রবার রাতেই অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে আলমাস, জসীম উদ্দিন, স্ত্রী বিলকিস বেগম সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বাদাঘাট ফাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক একে এম জালাল উদ্দিন বলেন, বাদাঘাট এলাকার হাওরে একটি ঘর ভাংচুর করা হয়েছে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি জসিম উদ্দিন নামের এক ধর্ষকের বসত ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। কারা ভাংচুর করেছে তাৎক্ষণিক কেউ কিছু বলতে পারেনি। তিনি বলেন মামলা দায়েরের পর থেকে ধর্ষকরা পলাতক রয়েছে, তাদের আটক করতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে।