পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ/ নিয়মিত বাজার তদারকির মধ্যে রাখার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
পুরো রমজান মাস দ্রব্যমূল্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজার মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাসময়ে বাজার মনিটরিংয়ের ওপর জনজীবনের স্বস্তি অনেকাংশে নির্ভর করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য স্থিতিশীল রাখার ওপর জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে নির্ভরশীল। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে সুযোগ না নিতে পারেন, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি করার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
জগন্নাথবাড়ী রোড়ের পাইকারী বিক্রেতা শ্যামল স্টোরের মালিক জানান, রমজানের এক সপ্তাহ আগে যে দামে পণ্য বিক্রি হয়েছে, এখনও সেই মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজরে নিত্যপণ্যের দামে বেশি পার্থক্য নেই বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩২ টাকা, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। চিনি পাইকারি প্রতি কেজি ১০৩-১০৫ টাকা, খুচরা দোকানে ১১০ টাকা। রসুন পাইকারি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, খুচরা বিক্রি ৮৫-৯০ টাকায়। চানা প্রতি কেজি পাইকারি মূল্য ৮২ টাকা, খুচরা বাজারে ৮৫ -৯০ টাকা। খোলা ময়দা পাইকারি কেজি ৬০ টাকা, খুচরা বাজারে ৬৫-৭০ টাকা। প্যাকেট সয়াবিন তেল পাইকারি বাজারে লিটার ১৩২ টাকা, খুচরা বাজারে ১৪০-১৪৫ টাকা। মসুর ডাল পাইকারি বাজারে ৯২ টাকা, খুচরা বাজারে ১০০-১২০ টাকা। মার্কস দুধের প্যাকেট পাইকারি কেজি ৮০০ টাকা এবং খুচরা ৮৫০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের জেলরোড এলাকার ইমা স্টোর, মেসার্স লোকনাথ স্টোর, মেসার্স জয়সত্য এন্টারপ্রাইজ এসব খুচরা দোকানগুলোতে পাইকারি বাজার থেকে নিত্যপণ্যের দাম কেজি প্রতি ১০-১৫ টাকা বেশি রয়েছে।
শহরের নবীনগর এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, প্রতিদিন যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে বর্তমানে বাজার করা অনেক কষ্টের। চাল আর তেল কিনলেই টাকা শেষ হয়ে যায়। সংসারের যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বেশি প্রয়োজন তা টাকার অভাবে একসাথে কেনা অসম্ভব। সকল জিনিসপত্রের দাম বেশি। ১ লিটার তেল কিনতেই ২০০ টাকা শেষ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ধার করে টাকা নিয়ে এসেছি সব বাজার একসাথে করতে। খুচরা দোকানগুলোতে থেকে বাজার করতে গেলে প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি লাগে। বাজার যদি নিয়মিত নজরদারি রাখা যায় তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে।
মাইজবাড়ী এলাকার শরীফ মিয়া বলেন, টাকা হাতে না থাকায় রমজানের বাজার করতে পারি নি। দুইদিন কাজ করে টাকা জমিয়ে আজকে বাজার করতে এসেছি। খুচরা দোকানগুলোতে গিয়েছিলাম ওখান থেকে পেঁয়াজ, ডাল, চিনি, চানা এগুলে কিনছি। আগের চেয়ে দাম ৫-১০ টাকা বেশি। যত দিন যাচ্ছে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে- আমাদের খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টও বাড়ছে।
তিনি বলেন, পবিত্র এই মাসটি আসলেই বেড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এটি কারো অজানা নয়। রমজান একদিকে যেমন খুশির বন্যা বয়ে আনে অন্যদিকে নিয়ে আসে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। প্রশাসন যদি বাজারের দিকে নজর রাখেন তাহলে ভালো হবে।
এদিকে জেল রোড এলাকার আব্দুল মালেক পোল্ট্রি ফার্ম, আলেক মিয়া পোল্ট্রি ফার্ম, রুপন মিয়া পোল্ট্রি ফার্ম ঘুরে দেখা গেছে- ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২৫০-২৬০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩৭০-৩৮০ টাকা, লোয়ার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগ কিনতে আসা হালুয়ারগাঁও এলাকার দিনমজুর আসমা বেগম জানান, মাংস আমাদের কাছে এখন সোনার হরিণ। বাচ্চাদের অনেকদিন ধরে এক টুকরো মাংস খাওয়াতে পারি নি। এক কেজি গরুর মাংস কিনতে গেলে তিন দিনের কাজের টাকা দরকার। কিন্তু বর্তমান বাজার যে অবস্থা তাতে মাংস খাওয়া দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুরগির দাম শুনেও মন খারাপ হয়ে গেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২৫০-২৬০ টাকা কিনতে হচ্ছে। বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে একটি মুরগি কিনেছি। একটি মুরগি কিনতে এখন ৫০০ টাকা প্রয়োজন যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টদায়ক। এবার মুরগির মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে আমাদের।
পোল্ট্রি বিক্রেতা রুপন মিয়া জানান, আমরা অসহায়, আমাদের কিছুই করার নেই। অতিরিক্ত দাম দিয়ে ডিলারদের কাছ থেকে আমাদের মুরগি কিনতে হয়। এছাড়াও পরিবহন খরচ ও মুরগি খাদ্যেরও অনেক খরচ রয়েছে। একটি মুরগি বিক্রি করে ১০-২০ টাকা লাভ না হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া কোন উপায় নেই।