সুষম উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগুচ্ছে সরকার-পরিকল্পনামন্ত্রী

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, একটি দেশের শিক্ষার মান যত বেশি হবে সে দেশের মানুষ তত বেশি উন্নত হবে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্মঠদের পছন্দ করেন, কাজকে পছন্দ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান, এ দেশের একজন মানুষও যেনো নিরক্ষর না থাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের একটাই লক্ষ্য, দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করতে। আমাদের পরিকল্পনায় আছে সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাপড় দেওয়ার। আওয়ামী লীগের কাছে শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার সর্বাগ্রে।
শনিবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের ঈশাখপুর-শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ কোটি ৪২ লক্ষ ৪০ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। দেশে সুষম উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান নিয়েই এগুচ্ছে সরকার। তবু এক শ্রেণির অকৃতজ্ঞ মানুষ আছে যারা দেশকে ভালোবাসে না। এরা দেশের শত্রু। দেশে থেকে, দেশের খেয়ে যারা মিথ্যাচার করে তারা বেশি দূর এগুতে পারবে না। তিনি বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। কোনো চক্রান্ত করে দেশের উন্নয়ন আটকে রাখা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের সব শ্রেণির মানুষের কথা ভাবেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা যখন হাওরের উন্নয়ন বিষয়ক কোনো দাবি তার কাছে জানাই তৎক্ষণাৎ তিনি অনুমতি দেন। তারই ফলস্বরূপ আজকের এই বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র যেটা একই সাথে বিদ্যালয়ের কাজেও ব্যবহৃত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম, শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার উজ্ জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিতাংশু শেখর ধর সিতু, সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন, শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ চৌধুরী, দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া।
এসময় আওয়ামী লীগের উপজেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ইশাখপুর-শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এর আগে সকাল ১০টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে শহীদ তালেব উদ্দিন ও কৃপেন্দ্র দাসের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের কল্যাণে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিশ্চিত করা হচ্ছে, তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আমৃত্যু থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু জীবদ্দশায় নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পরও তাদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হচ্ছে।
পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার উজ জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিতাংশু শেখর ধর, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নুর হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দুলন রানী তালুকদার, সহকারি কমিশনার (ভূমি) সকিনা আক্তার, নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মাহবুব আলম, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আল নুর তারেক, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাসুদ আহমদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সুহাইল আহমদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খালেদ আহমদ চৌধুরী, উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতাউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অবনী বিশ্বাস, মসদ আলী, জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমদ প্রমুখ।
অপরদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলার হল রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দিরাই হাতিয়া গ্রামের সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগ নেতা তালেব উদ্দিন ও পাগলা ব্রাহ্মণগাঁও’র কৃপেন্দ্র দাস সহ অজানা আরও একজন মুক্তিযোদ্ধা পাকবাহিনীর হাতে বন্দি হন। তাদেরকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী সুনামগঞ্জ ছেড়ে যাওয়ার সময় আহসানমারা ফেরী ঘাটে গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়ে যায়। তাদের এই তিনটি লাশ নদীর স্রোতে ভেসে উজানীগাঁও গ্রামের জয়কলস উজানীগাও রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সুরমা নদীর তীরে এসে ভেসে উঠে। পরে স্থানীয় লোকজন শহীদের রক্তাক্ত লাশগুলো দেখতে পেয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলার উজানিগাঁও রাশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এনে এক কবরস্থানে সমাহিত করেন।