মুঠোফোনে প্রেম বিয়ে প্রতারণার শিকার নারী

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে প্রেম, বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী নারী সব কিছু হারিয়ে এখন আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের মিঠাভরাং গ্রামের দৌলত খানের ছেলে গোয়ালাবাজার শাহজালাল হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হাফিজ জাবেদ আহমেদ খান (৩৪) মুঠোফোনে পটুয়াখালী জেলার মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিণ মসজিদ বাড়িয়া গ্রামের ফজলুল হক হাওলাদারের মেয়ে রাশেদা বেগম এর সঙ্গে মুঠোফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। ২০১৯ সালে রাশেদা বেগম সৌদিআরবে থাকাকালে মাদ্রাসা শিক্ষক দৌলত খান ঐ নারীর কাছ থেকে ভাই জাহেদ খান কে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে এক লাখ টাকা নেন। এসময় মুঠোফোনে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সৌদিআরব থেকে ছুটি নিয়ে ওই নারী স্বামীর বাড়ি জগন্নাথপুরে এসে সংসার শুরু করেন। এসময় ওই নারীর কাছ থেকে সাংসারিক কাজের কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা নেন। দুই মাস ছুটি শেষে ঐ নারী আবার সৌদিআরব চলে যান। সেখানে আয় রোজকার করে বিভিন্ন সময়ে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা দেন। গত বছরের ৩০ মে আবার দেশে আসলে ওই নারীর কাছে জায়গা বিক্রির কথা বলে স্টাম্পে স্বাক্ষর করে তিন লাখ টাকা নেয়া হয়।
রাশেদা বেগম বলেন, ভালোবাসার নামে প্রেম ও বিয়ের অভিনয় করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে আরও টাকার জন্য চাপ দেয়। যৌতুকের টাকা না দিলে আমার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এক পর্যায়ে জায়গা বিক্রির নামে আমার সাথে প্রতারণা করায় আমি বিষয়টি বুঝতে পারি। এসব বিষয়ে কথা বললে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে আমি আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি যৌতুক ও প্রতারণার অভিযোগে দুইটি মামলা দায়ের করি। তিনি বলেন, পটুয়াখালী থেকে সুনামগঞ্জ গিয়ে মামলার খোঁজ খবর নিতে গিয়ে আমি কষ্টে ভুগলেও আমি ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করছি। তিনি বলেন, আমার কাছে বিয়ের কাবিননামাসহ সব প্রমাণ রয়েছে।
অভিযুক্ত জাবেদ আহমেদ খান বলেন, মামলা বিচারাধীন রয়েছে তাই আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।
আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মিঠাভরাং গ্রামের বাসিন্দা রুবেল আহমেদ জানান, ওই নারী অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার সালিশ বৈঠকে বসেছিলাম। নারী প্রতারিত হওয়ার সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় সালিসে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু জাবেদ আহমেদ খান সালিসের সিদ্ধান্ত না মানায় বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে।
প্রতারণার শিকার নারীর আইনজীবী সুনামগঞ্জ জেলা বারের অ্যাডভোকেট আবুল মাজাদ চৌধুরী জানান, প্রতারণা ও যৌতুক দাবির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা দুইটি তদন্তাধীন রয়েছে।