দশ দিনের মাথায় আবারও ভাঙলো ভমবমি সেতু/ ৫ ঘন্টা পর স্বাভাবিক যান চলাচল

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি
দশ দিন আগে বেইলি সেতুর তিনটি পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ৭ ঘন্টা বন্ধ ছিল পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি সড়ক। সেদিন ওয়েল্ডিং করে, জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছিল ব্যস্ততম এই সড়কের। ওই দিনের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার আবারও নদীতে পড়ে যায় সেতুর তিনটি পাটাতন। এসময় সেতুর উভয় পাশে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। পরে স্থানীয়রা থানায় অবগত করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। দীর্ঘ ৫ ঘন্টা পর স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হঠাৎ সেতুর তিনটি পাটাতন নদীতে ভেঙে পড়ে এবং কিছু অংশ ভেঙে যায়। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি শান্তিগঞ্জ থানার পুলিশকে জানালে পুলিশ সেতুতে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ভমবমী বাজার এলাকার বাসিন্দা শামসুল কবির ফখরুল বললেন, সকালে হঠাৎ করে সেতুর তিনটি পাটাতন নিচের দিকে দেবে যায়। এতে বড় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। মার্চের ২৮ তারিখও দুটি পাটাতন ভেঙে নিচে পড়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিলো। এভাবে প্রায়ই পাটাতন দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভারি কোনো যান পার হওয়ার ফলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। যোগাযোগ নির্বিঘœ রাখতে এখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।
ট্রাক চালক সাব্বির আহমদ ও সিএনজি চালক শাহিন মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন আগেও এ সড়ক ভেঙেছিলো। ব্রিজটি খুব রিস্কি। কি যে মেরামত করে, তারাই জানে, বারে বারে ভেঙে যায় পাটাতন। সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালেদ চৌধুরী বলেন, সেতুর পাটাতন দেবে যাওয়ার পর ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয় ও বিষয়টি সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগকে জানানো হয়।
সুনামগঞ্জ সড়ক জনপথের বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম প্রামাণিক বলেন, বিকাল ৪টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সেতুর তিনটি পাটাতন নদীতে পড়ে ছিল। এসময় সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর রুটে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার পরপরই সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন সেতুর মেরামত কাজ শুরু করে।