বলাকা পেট্রল পাম্প অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার
বলাকা পেট্রল পাম্পের জায়গা দখল ও রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।
শনিবার দুপুরে জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরি, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মল্লিকপুর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক মো. নুর উদ্দিন।
তিনি বলেন, ৩ এপ্রিল রাতে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে বলাকা পেট্রল পাম্পের সংবাদ সম্মেলন এবং পাম্পের স্বত্বাধিকারী মশিউর রেজা টিংকু স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ করা হয় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায়। অভিযোগে উল্লেখিত সত্ব দখলিয় জায়গায় বিনা অনুমতিতে রাতের অন্ধকারে ঘর বানানো, দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি, অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা সহ আমাদের বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। প্রকৃত পক্ষে এই জায়গার মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যেহেতু আমরা সড়ক ব্যবহারে সরকারকে নিয়মিত ট্যাক্স দিয়ে আসছি। তাই সড়কের জায়গা ব্যবহারে আমরা সবার আগে অগ্রাধিকার পাই। এই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দীর্ঘবছর ধরে আমরা আছি। আমরা রাতে নয়, দিনের বেলা ঘর নির্মাণ করেছি। অফিস নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি ঢুকে আমাদের অফিসের ফার্নিচার নষ্ট হয়ে যায়। পাম্প কর্তৃপক্ষ আমাদের পানি নিষ্কাশনের আশ্বাস দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয় নি। তাই অপারক হয়ে মাটি ফেলে জায়গা উঁচু করে নতুন ঘর দিনের আলোতে নির্মাণ করা হয়েছে। তারা রাতের অন্ধকারে ঘর বানানোর যে সিসিটিভি ফুটেজ আছে বলে অভিযোগে দাবি করছেন তা জনসম্মুখে প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা কোন চাঁদাও দাবি করি নি, বরং পাম্প থেকে আমাদের বিভিন্নভাবে টাকার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে যেন টাকার বিনিময়ে আমরা এখান থেকে উঠে যাই। আমরা তাদের এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
সড়কের জায়গা দখল করে অফিস বানানো এবং ট্রাক রাখা এটিও অবৈধ কাজ। এমন অবৈধ কাজ আপনারা কেন করছেনএ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নুর উদ্দিন বলেন, আপনারা জানেন বাস স্ট্যান্ডের মতো আমাদের নিজস্ব কোনো স্ট্যান্ড নাই। এখানে না রাখলে আমাদের ট্রাক সড়কে রাখতে হবে। এমনিতেই সুনামগঞ্জের ট্রাফিক ব্যবস্থা সামাল দিতে ট্রাফিক বিভাগ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এরমধ্যে যদি সড়কের পাশে ট্রাক রাখা হয় তাহলে সড়ক আরও সংকীর্ণ হয়ে যাবে। যান চলাচল ব্যাহত হবে। ট্রাফিকের অবস্থা আরও খারাপ হবে। তাই সরকারি এই জায়গা ফাঁকা থাকায় আমরা ব্যবহার করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ সদর আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মছব্বির মিয়া, সহ সভাপতি ফরিদ মিয়া, সম্পাদক আবুল জাহান, সহ সম্পাদক গোপাল মালাকর, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু খালেদ মাছুম সহ ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, বিষয়টি অবগত আছি। আমি আমাদের সার্ভেয়ারকে ইতিমধ্যে বলে দিয়েছি জায়গা পরিমাপ করার জন্য। সরেজমিনে মাপজোক করে সীমানা নির্ধারণ করলে কার জায়গা পরিষ্কার হয়ে যাবে।