দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকায় উন্নয়ন হচ্ছে- পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় তিনি বলেন, সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকলে উন্নয়ন ভালো হয়। মহান আল্লাহতালা সমাজে শান্তি শৃঙ্খলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘তোমরা পরস্পরের প্রতি বিবাদ করিও না’ এই ধরনের অনেক নির্দেশনা মহান গ্রন্থ আল কোরআনে আছে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি বাংলাদেশে উন্নয়নের যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে তা সম্ভব হয়েছে বিগত কয়েক বছরে দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ও সুরক্ষা বজায় থাকায়। আজকের দিনে প্রার্থনা জানাই- বাংলাদেশে শান্তি শঙ্খলা থাকুক, বিবাদ সংঘাত দূর হোক। সকল ধরনের মনোমালিন্য আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যাতে সমাধান করতে পারি।
শনিবার সকাল ৮টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজের আগে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি।
এসময় তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জের সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের খেটে খাওয়া মানুষ কৃষক, শ্রমিক যারা মাঠে ময়দানে কাজ করছেন- তাদের পরিশ্রমের ফসল যাতে আমরা ঘরে তুলতে পারি এটাই আমার আজকের দিনের প্রার্থনা।
এসময় সুনামগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি, হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, আপনারা জানেন হাওরের একমাত্র ফসল বোর ধান এখন কাটার কাজ চলছে। ১ হাজার কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও শ্রমিকরা ইতোমধ্যে ৬০ ভাগ ধান কেটেছেন। সামনে ধারাবাহিক বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আমি আপনাদের মাধ্যমে সকলকে আহবান জানাচ্ছি- ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলেই ধান কেটে ঘরে তুলুন।

সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান


সকাল ৮টায় হাছননগর ঈদগাহ ময়দান, মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দান, নবীনগর জামে মসজিদ ও জেলা কারাগার জামে মসজিদে সকাল ৮টায় নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর ঈদগাহ ময়দান, পুলিশ লাইনস জামে মসজিদ, আফতাবনগর ঈদগাহ ময়দান, সদর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮.১৫ মিনিটে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও আরপিননগর ঈদগাহ ময়দান, লক্ষণশ্রী ঈদগাহ ময়দান (তেঘরিয়া), পাঠানবাড়ি ঈদগাহ ময়দান, বড়পাড়া ঈদগাহ ময়দান, মল্লিকপুর নতুন বাসস্টেশন সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দান, বায়তুন নূর জামে মসজিদ (হাছনবসত, কালীপুর), বলাকাপাড়া জামে মসজিতে সকাল সাড়ে ৮টায় এবং জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে ঈদ জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজে বাংলাদেশের শান্তি ও অগ্রগতি এবং জনগণ তথা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার মধ্যেই বিগত কয়েক বছর মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হয়েছে। এবার করোনার প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় তাদের মধ্যে ঈদ ঘিরে আগের মতো আনন্দ-উচ্ছ্বাস ফিরে এসেছে।

করোনা মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকারের নির্দেশনায় বিগত কয়েক বছর খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। সেটি হয়েছে মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে। কিন্তু এবার ঈদগাহ ও খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।