স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরতলির কুরবাননগর ইউনিয়নের এক ভণ্ড কবিরাজের কার্যকলাপে এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে। চরিত্রহীন নারীলোভী ওই ভণ্ড কবিরাজ চার বিয়ে করার পরও সোমবার রাতে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। এই ঘটনায় থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ইউনিয়নের শেখেরগাঁও গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী ওই প্রতারকের নাম হাবিব।
এলাকাবাসী জানান, এর আগেও একাধিকবার কবিরাজির উচিলায় এ ধরনের ঘটনা (ধর্ষণের ঘটনা) ঘটিয়েছে সে। এরপর কিছুদিনের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। চার বিয়ে করা এই ভণ্ডের এক বউ বাড়িতে থাকে, সে অনেকটা পাগলের মতো, এক বউ ছেড়ে চলে গেছে আর এক বউ থাকে বাপের বাড়িতে। সম্প্রতি গ্রামবাসী জানতে পেরেছে সে আরেকটি বিয়ে করেছে। তিন কন্যা সন্তানের বাবা সে। গ্রামের মানুষের সাথেও তার আচার আচরণ ভালো নয়। সোমবার রাতের ঘটনার পর সে বাড়ি ছাড়া।
ভন্ড কবিরাজ হাবিব সোমবার রাতে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অজ্ঞান করে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনা জানতে পেরে মেয়েটির পরিবার মঙ্গলবার বিকালে হাবিবেব বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর থেকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে খুঁজছে।
শেখের গাঁওয়ের পাশের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই ধরণের ঘটনা সে কিছুদিন পরপর করে থাকে। তার কুকীর্তিতে এলাকাবাসী লজ্জ্বিত। কবিরাজির পাশাপাশি হাবিব মাঝে মাঝে সাপও ধরে।
নৈতিক চরিত্র খারাপ হওয়ার পরও মিষ্টভাষি-ছদ্মবেশী হাবিব কথার জাদুতে মানুষকে ভোলানোর চেষ্টা করে এবং তার কাছে চিকিৎসা নিতে মানুষ আসে বলে জানান সিরাজুল ইসলাম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, হাবিব খুবই বাজে মানুষ। গত ১৫-২০ বছর ধরে করিরাজি’র নামে প্রতারণা করছে। কবিরাজি, বান, জাদু-টোনা করে আবার সাপও ধরে সে। তিনি বলেন, কয়দিন পরপর বিয়ে করে সে। ইতিমধ্যে চার বিয়ে করেছে, দুই স্ত্রী’র তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে এ ধরণের অভিযোগে গ্রামের পঞ্চায়েত তাকে ডেকেছে, কিন্তু সে আসে নি। ঘটনা ঘটিয়েই কিছু দিনের জন্য বাড়ি থেকে চলে যায়। এখন সে বাড়ি ছাড়া, আমরা তাকে খুঁজছি। তাকে ধরার জন্য চারদিকে মানুষও লাগিয়েছি। গ্রামে পুলিশ আসছে তাকে খুঁজতে।
এদিকে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের আরেক পৃথক ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বাড়িতে তুলে নিয়ে ৩ দিন রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আফতার নগরের বাসিন্দা জুনেদ মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়ার বিরুদ্ধে। এই ধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন ধর্ষিতার পরিবার।
গেল ২৪ এপ্রিল আফতাব নগর গ্রামের বাসিন্দা জুনেদ মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়া দাঁড়ালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে গাড়ীতে তুলে সিলেট নিয়ে যায়। সেখানে তিন দিন পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয় ওই ছাত্রী। এঘটনায় ২৫ এপ্রিল মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না উল্লেখ করে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করা হয়।
পরে গ্রামের সালিশকারিদের সহায়তার ২৭ এপ্রিল মেয়েকে ফিরে পায় পরিবার। এঘটনার পর অভিযুক্ত নয়ন মিয়ার পরিবার ও গ্রামবাসী ভিকটিমের পরিবারকে থানা থেকে অভিযোগ তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখায়। ভয়ে মেয়েটির পরিবার থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়।
মঙ্গলবার (২ মে) মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে রাতে আবারও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভণ্ড কবিরাজের ঘটনাসহ দুটি ঘটনায়ই মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
- জগন্নাথপুরে শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব/ সরকারি কর্মচারী স্ট্যান্ড রিলিজ
- তাহিরপুরে কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ


