আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরের হাওর-জলাশয়ে চলছে অবাধে পোনা মাছ নিধন। চলতি বছর বৈশাখ মাসে রোদ ও দফায় দফায় বৃষ্টিপাতের ফলে ধানের জমিগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমান পানি থাকার কারণে মা মাছ ধানের জমিতে এসে ডিম ছাড়ে। এ সুযোগে পোনা মাছ শিকারীরা সহজেই ধানের জমিগুলো থেকে পোনা মাছ জাল দিয়ে ধরে নিয়ে আসছে। উপজেলার শনি, মাটিয়ান, বলদা, মহালিয়া, ফানা, টাঙ্গুয়া, গনিয়াকুড়ি, সমসা, বনুয়া, পালই, আঙ্গারুলি হাওর সহ ২৩টি ছোট-বড় হাওর-জলাশয়-নদী-নালার পানিতে পোনা মাছের অবির্ভাব দেখা গেছে। হাওরপাড়ের এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য আহরণকারীরা প্রতিদিনই ঠেলাজালি নিয়ে সকাল তেকে হাওরে হাওরে পোনা মাছ শিকারের জন্য ঘুরতে থাকে। পোনা মাছের ঝাঁক তাদের দৃষ্টিতে পড়া মাত্রই জালি ফেলে পোনা মাছ ধরে। পরে মৎস্য শিকারি পোনা মাছগুলো বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ধারনা, বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে এ সমস্ত পোনা মাছ নিধন করা না হলে উপজেলার হাওরগুলোতে বর্ষাকালে মাছের আর কোন অভাব থাকত না।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের আশি বছরের প্রবীণ ব্যক্তি লিবাস আলী বলেন, আমাদের রিজিক আমরাই নষ্ট করছি। বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে এভাবে যদি পোনা মাছ নিধন করা না হতো, তাহলে হাওরপাড়ে বর্ষাকালে আর মাছের অভাব হতো না। এ সমস্ত পোনা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে উপজেলা সদর তাহিরপুর বাজার, আনোয়ারপুর, বালিজুরি, সোলেমানপুর, লামাগাঁও, কাউকান্দি, নতুনবাজার সহ সবগুলো হাট বাজারে।
তাহিরপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বলেন, তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সামনে প্রতিদিন পোনা মাছ নিধন করে অসাধু মৎস্য শিকারিরা তাহিরপুর উপজেলা সদর বাজারে তা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। এভাবে পোনা মাছ নিধন অব্যাহত থাকলে দেশী প্রজাতির মাছ হাওর থেকে বিলুপ্তি হয়ে যেতে আর বেশি দিন লাগবে না।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইউসূফ আলী বলেন বলেন, দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তা দমন করা হবে।
- সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণে একলক্ষ টাকা অনুদান দিলেন জেলা প্রশাসক
- ভাঙনরোধে নেয়া প্রকল্প এলাকার বালি লুট ! নীরব প্রশাসন


