কৃষকদের বাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করছে বিনা

স্টাফ রিপোর্টার
দেশে তেল আমদানি খরচ কমাতে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা) উদ্ভাদিত উচ্চ ফলনশীল বিনা চীনা বাদাম—৬ এর প্রচার ও সম্প্রসারণে কৃষকদের নিয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে বিশ্বম্ভপুর উপজেলার মৌয়াকুড়া গ্রামে এই মাঠ দিবসের আয়োজন করে বিনা সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্র। অনুষ্ঠানে বিনা উদ্ভাদিত বাদাম চীনাবাদাম—৬ সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেয়া হয়। বিনা উপকেন্দ্র সুনামগঞ্জের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মানিকের সঞ্চালনায় বক্তারা জানান, সুনামগঞ্জ মানেই ধানের এলাকা। এই এলাকায় যে ধানের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল চাষ করা যাবে অনেকেরই ধারণা নেই। জেলায় বর্তমানে যেটুকু জমিতে বাদাম চাষ হচ্ছে সেটির ফলন কম, খরচ বেশি। কিন্তু বিনা চীনা বাদাম বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে উদ্ভাদিত বলে ফলন বেশি এবং খরচ কম। বীনার এই জাত চাষ করলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে। কৃষকও দেশ লাভবান হবে।
বাদাম চাষি আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, একসময় আমাদের এলাকার অধিকাংশ জমি পতিত থাকতো। জমিতে আমি শুধু ধান চাষ করতাম। বর্তমান সরকার কৃষির প্রতি অধিক গুরুত্ব দেয়ায় পতিত জমির সংখ্যা কমে গেছে। এখন বিনা ও কৃষি অফিসের সহায়তায় ধান, বাদাম ও বিভিন্ন সবজি সহ ৩ থেকে ৪ ফসল করছি একই জায়গায়। এতে আমার উৎপাদন বেড়েছে। আমি উপকৃত হয়েছি। আমি অন্যান্য কৃষকদের আহবান জানাই, জমি পতিত না রেখে বিনার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে একই জমিতে কম খরচে অনেক ফসল উৎপাদন করুন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিনা সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুন নবী মজুমদার বলেন, দেশে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পতিত জমিতে চাষের গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি এক জায়গায় দুই তিন ফসল উৎপাদন করতে হবে। এটি করতে বীজ ও পরামর্শ সহ যা যা প্রয়োজন আমরা সহযোগিতা করবো
অনুষ্ঠানে ভার্চু্যয়ালি যুক্ত হয়ে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, তেল আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য। এই ভোজ্য তেল আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমদানি খরচ হিসেবে ২৬—২৭ হাজার কোটি টাকা দিতে হয় সরকারকে। তাই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদনের। এতে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমবে। সুনামগঞ্জের যে জায়গায় বোরো হয় না কিংবা পতিত থাকে সেই জায়গায় তেল জাতীয় ফসল হিসেবে বীনার এই চীনাবাদাম চাষ করতে হবে।
বিনা মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম ভার্চু্যয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন তেল ও ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা চরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর বাস। যাদের অধিকাংশ কৃষিতে সম্পৃক্ত। আমাদের শুধু কৃষিকাজ করলে হবে না, লাভজনকও হতে হবে। চীনাবাদাম একটি লাভজনক দামী ফসল। বাজারে এর মূল্য অনেক। জমি পতিত না রেখে জমিতে লাভভান হওয়ার জন্য বীনা চীনাবাদাম—৬ সহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করুন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিনা সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলিফ হোসাইন, বিশ্বম্ভপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো আল আমিন, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ ও শামসুল আলম বিধু।
এরপর বিনা উদ্ভাবিত আউশ ধানের বিভিন্ন জাতের পরিচিতি ও বীজ উৎপাদন পদ্ধতি বিষয়ে ৬০ জন কৃষক—কৃষাণীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণে বীনা উদ্ভাদিত ধানের সুফল সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করেন বীনা সাপোর্ট সার্ভিসের পরিচালক (প্রশাসন) ড. মো. আবুল কালাম আজাদ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।