সু.খবর ডেস্ক
.আবেগের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জনসাধারণ তুলনামূলকভাবে ইউরোপ ও আমেরিকান জনগণের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। এটির প্রমাণ পাওয়া যায় যখন আমরা সব সময় পাকিস্তান বনাম ইন্ডিয়া, খুব সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, ইন্ডিয়া কিংবা ইংল্যান্ডের ক্রিকেট খেলা হয়।
নিঃসন্দেহে কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নতি অনেক পরাশক্তিধর ক্রিকেট খেলুড়ে জাতিকে বিস্মিত ও ঈর্ষান্বিত করেছে এবং বাঙালি জাতিকে করেছে গর্বিত। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং দর্শকদের আচার-আচরণেও অনেক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়—যা আমরা দেখেছি বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় একদিনের ক্রিকেট ম্যাচে, যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের বাঁধভাঙা উচ্ছলতা প্রদর্শন বা উদ্যাপন, যেটি ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার ভালোভাবে নেননি। যার প্রতিক্রিয়ায় জস বাটলার খেপে গিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দিকে। অন্যদিকে বাংলাদেশি ক্রিকেটার তামিম ইকবালের জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে করমর্দনের সময় ব্যবহার খুব ভালোভাবে নেয়নি ইংলিশ সহ-অধিনায়ক বেন স্টোকস। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অতিরঞ্জিত উদ্যাপন, জস বাটলারের তেড়ে যাওয়া, তামিম ইকবাল আর বেন স্টোকসের ব্যবহার অনেকে অনেকভাবে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। বাংলাদেশের মতো ইংলিশ গণযোগাযোগ মাধ্যমগুলোও এ বিষয়গুলো নিয়ে সরগরম। যেমন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন বিবিসি ফাইফ স্পোর্টসকে গত সোমবারে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অতিরঞ্জনের কারণে জস বাটলার উদ্যতভাবে আচরণ করে কোনো ভুল করেননি। আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন জনপ্রিয় দৈনিক ডেইলি মেইল বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ম্যাচ-পরবর্তী ১০ অক্টোবর লিখেছেন, ক্রিকেট সব সময় অলীক সীমানার কথা বলে, যেটি কোনো খেলোয়াড়েরই লঙ্ঘন করা উচিত নয়, যেভাবে হোক না কেন এই ম্যাচে দুই দলই সেই সীমানা অতিক্রম করেছে। সেই যা-ই হোক, কোন খেলোয়াড়ের কত দোষ ছিল আমরা তা অনুধাবন করতে পারি পরবর্তী সময়ে আইসিসি প্রদত্ত শাস্তির ধরন ও পরিমাণ দেখে।
ইংলিশদের এই বাংলাদেশ সফর বিভিন্ন কারণে কঠিন ও জটিল, বিশেষ করে, নিরাপত্তাজনিত এবং পরিবেশগত কারণে। আমার মতে, ইংলিশদের সদিচ্ছা ও বাংলাদেশের ক্রীড়া কূটনীতির কারণে এই ইংলিশ ক্রিকেট দলের এই সফর অনেকটা সম্ভব হয়েছে। ফলে ইংলিশদের এই সফর অনেকটা প্রতিযোগিতার চেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের এই আচরণ ইংলিশ অধিনায়কের মতো ইংলিশ মিডিয়াসহ ইংলিশ ক্রিকেটার, ইংলিশ ক্রিকেটের শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিরাশ করেছে, আগে যেখানে বাংলাদেশ সফরে না যাওয়াই ইংলিশরা সবাই ইংল্যান্ডের সচরাচর অধিনায়ক মরগানসহ অন্যদের তিরস্কার করছিল।
বাংলাদেশিদের অতিথিপরায়ণ হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে। আমার ইচ্ছা সেই সুখ্যাতি অটুট থাকুক। সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেটারদেরও মনে রাখতে হবে, তাঁদের অন্য দেশের খেলোয়াড়দের প্রতি মাঠের আচার-আচরণ খুব স্বাভাবিকভাবে মাঠের বাইরে দর্শকদের ওপর ভর করে। অতএব, তাদের আচরণ খুব বেশি খেলোয়াড়সুলভ এবং কম ব্যক্তিগত হওয়া উচিত। আর দর্শকদেরও বোঝা উচিত, ক্রিকেটের সঙ্গে ওদেরকে সংযত হতে হবে। আমার আশা, গত ম্যাচের আচরণের প্রভাব যাতে বুধবারের ম্যাচে কোনোভাবে না পড়ে এবং ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলারের হতাশা যাতে মর্মাহতে পরিণত না হয়।


