সোহানুর রহমান সোহান
আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ২৯ জুন মুসলিম ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ পালন করা হবে। ঈদের দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কুরবানি দেয়া হবে। সামর্থ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বড় এবং সুন্দর পশু কেনার প্রতিযোগিতা চলছে গরুর হাটগুলোতে। তাই কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৫৮ হাজার ৪১৩টি গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া। এসব গরু ছাগলের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পশুর হাটগুলোতে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। পাশাপাশি জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে জেলা অফিসে থাকবে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যেখান থেকে সেবা নিতে পারবেন কুরবানির পশুর ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর জেলায় কুরবানিযোগ্য মোট গরুর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩২৩টি, মহিষ আছে ১ হাজার ৩০১টি। এছাড়াও ৯ হাজার ৭৮৯টি ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে মোট চাহিদা ৫৪ হাজার ৩৬২টি। চাহিদা পূরণ করে প্রায় ৪ হাজার পশু থাকবে উদ্বৃত্ত। জেলায় মোট পশু খামারির সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮০ জন। সবচেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত আছে ছাতক ও সদর উপজেলায়। ছাতকে ১২ হাজার ২২০টি ও সদরে ৮ হাজার ২০২টি। এছাড়াও প্রত্যেকদিন জেলার বাইরে থেকে ট্রাকভর্তি গরু-ছাগল আসবে এবং যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ বছর পশু কুরবানির সংখ্যা কমবে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। তারা জানান, আগে অনেকে কম মূল্যে কুরবানি দিতে পারতেন, কিন্তু এ বছর সেই টাকায় পশু পাবেন না। জেলার অস্থায়ী পশু হাটগুলো এখনো মানুষের পদাচরণা না হলেও গত কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ার পর রোদ উঠায় জমে উঠেছে গ্রামীণ স্থায়ী হাটগুলো। পছন্দের গরু-ছাগল কিনতে ও দেখতে হাটে যাচ্ছেন মানুষ। গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম বেশি বলে জানিয়েছেন হাটে আসা মানুষ।
বিশ্বম্ভপুরের কারেন্টের বাজার পশু হাটে গরু কিনতে আসা আকমল হোসেন অভি বলেন, জেলার সকল হাট সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা আছে। কুরবানি ছাড়াই আমি পশুর হাটে ঘুরি। গরুর হাটে গরু কেনা এবং দেখা আমার শখ ও নেশা। এ বছর গরুর দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও বেশি। গত বছরের ৬০ হাজার টাকার গরু এবছর ৯০ হাজার টাকা।
অনিক আহমেদ বলেন, মধ্যবিত্তরা একটি মাঝারি বা ছোট সাইজের গরু খোঁজে। কিন্তু এই সাইজের গরুগুলোরই দাম সব থেকে বেশি। যার কারণে গতবার যারা ছোট বা মাঝারি সাইজের পশু কুরবানি দিয়েছেন এবছর মনে হয় না সেই টাকায় তারা কুরবানি দিতে পারবেন না। সংসার চালানোই কষ্ট যেখানে সেখানে বাড়তি টাকা দিয়ে গরু কিভাবে কিনবে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর কুরবানির জন্য সুনামগঞ্জে প্রায় ৫৮ হাজারের অধিক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এদের স্বাস্থ্য সহ অন্যান্য সেবা দিতে সার্বক্ষণিকভাবে তত্বাবধানে রাখা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা থেকে আমার নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। আমাদের পশু ঘাটতি নেই।


