চীনের সঙ্গে কাজ করছি, ভারতের সঙ্গেও -আশরাফ

সু.খবর ডেস্ক
ভারত-চীন সম্পর্ক শীতল হলেও দুই দেশের সঙ্গেই সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সরকার চীনের সঙ্গে যেমন কাজ করছে, তেমনি ভারতের সঙ্গেও কাজ করছে। শনিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে বিদায় জানানোর পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুই দিনের সফরে শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকায় আসেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। আজ সকাল ১০টার পরে তিনি ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উঠেছে বলে আলোচনা চলছে সর্বত্র। এদিকে এ সরকারের সঙ্গে ভারতেরও সুসম্পর্ক রয়েছে। অথচ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের সঙ্গে এশিয়ার বিশাল আকৃতির দেশ ভারতের সম্পর্ক তত মধুর নয়। বিশেষ করে সম্প্রতি পরমাণুপ্রযুক্তি সরবরাহের অভিজাত গোষ্ঠী নিউক্লিয়ার সাপায়ার্স গ্রুপে (এনএসজি) ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের বিরোধিতা এ সম্পর্ককে আরও শীতল করেছে। চীনের কারণেই    ভারত বহু বছর ধরে চেষ্টা করেও এনএসজির সদস্য হতে পারছে না বলে দাবি করা হয়। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, এ প্রশ্ন রাখা হয় জনপ্রশাসনমন্ত্রীর কাছে।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে। একা কোনো কিছুই করা সম্ভব না। সরকার চীনের সঙ্গে যেমন কাজ করছে, তেমনি ভারতের সঙ্গেও কাজ করছে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, চীন এখন পরাশক্তি। এটা মেনে নিতে হবে। এখন পর্যন্ত দেখা গেছে, চীন গঠনমূলক। এখানে চীনকে নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। চীনের সঙ্গে পাঁচ-সাত বছর ধরে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। পশ্চিমা বিশ্ব বলে বেশি, বাস্তবায়ন করে খুবই কম। তবে চীন বাস্তবায়নে খুব তৎপর। কোনো সময়েই ফাঁকি দেয় না।
চীনের প্রেসিডেন্টের দুই দিনের সফরকে সফল উলেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘কত টাকা দিল? কত চাল দিল? কত ডাল দিল? এটা নিয়ে খোঁচাখুঁচি করতে পারেন। বিষয়টা হলো সংযোগ। চীন আমাদের সঙ্গে আছে। এটাই মূল বিষয়।’
মিয়ানমারের সঙ্গে বিরাজমান সমস্যাগুলো চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, মিয়ানামার আর বাংলাদেশ এক নয়। এই ভূখন্ড মিয়ানমারের চেয়ে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ভূখন্ড কেউ অবহেলা করতে পারবে না। প্রয়োজন থেকেই চীন এ ভূখন্ডকে গুরুত্ব দেয়।
এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে শুধু বাণিজ্য নয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, শিল্প-সাহিত্য সবকিছুই জড়িত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা। বাংলাদেশ এটাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্টকে বিদায় জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। এর আগে শনিবার সকাল নয়টার দিকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট।