স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভার সীমানায় ভবন ও বাসা-বাড়ির মালিকদের পূর্বে নির্ধারিত পৌরকর হ্রাস করে পৌর কর্তৃপক্ষ নতুন করে কর নির্ধারণ করছেন বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বার্ষিক এসেসম্যান্টকে ঠিক রেখে শতকরা ১৭ ভাগের পরিবর্তে ৬ ভাগ কর নির্ধারণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রাথমিক কর নির্ধারণের নোটিশ পাওয়ার পর পৌর নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হলে পৌর মেয়র করের পরিমাণ যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নির্ধারণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। গত ২৩ আগস্ট জেলা বারে অনুষ্ঠিত আইনজীবীদের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে পৌরমেয়র পূর্বের করনির্ধারণ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। ওই দিনই অস্বাভাবিক কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে পৌরসভার কর নির্ধারককে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছিল। এইসব পদক্ষেপের ফলে তখন জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।
পূর্বে নির্ধারিত বার্ষিক এসেসম্যান্টের উপর ১৭% এর পরিবর্তে ৬% হারে চূড়ান্ত কর নির্ধারণের বিষয়টি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে নিশ্চিত করেছেন পৌর মেয়র ও পৌরসভার কর শাখা।
জানা যায়, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ গত কয়েকমাস পূর্বে নতুন করে পৌরসভার আবাসিক এলাকার বাসা-বাড়ির মালিকদের পৌর করের চিঠি প্রদান করেন। ওই চিঠিতে অস্বাভাবিক পৌর কর নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে ব্যাপক আকারে অভিযোগ উঠে। অনেক ভবন মালিক অভিযোগ করেছিলেন তাদের করের পরিমাণ এর আগের হারের চাইতে অনেকগুণ বেশি নির্ধারণ করা হয়।
অস্বাভাবিক পৌর কর নির্ধারণ করায় আবাসিক এলাকার অনেক গ্রাহক পৌর কর পুননির্ধারণে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি পৌর মেয়রের নজরে আসায় প্রথমে শহরে মাইকিং করে কারো আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে জানানোর আহবান জানানো হয়। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে পৌর মেয়র গত ১ সেপ্টেম্বর পৌর কার্যালয়ে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন। সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় বার্ষিক মূল্যায়নের উপর আগের নির্ধারিত ১৭% পৌরকর থেকে ১১% হ্রাস করে ৬% কর নির্ধারণ করার। ৬% পৌরকর নির্ধারণের বিয়য়টি স্থানীয়ভাবে সবাইকে অবগত করে ও সকলের মতামত গ্রহণের জন্য ওয়ার্ড পর্যায়ে মতবিনিমত সভা করেছেন বলে জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের অনেক বাসিন্দা এসেসম্যান্টের প্রাথমিক নোটিশ পাননি। তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাদের কর কোন এসেসম্যান্টের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
পৌরসভার কর শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জ্যোতিলাল সরকার যীশু বলেন,‘পৌরসভার কর বার্ষিক মূল্যায়নের উপর ১৭% থেকে ১১% কমিয়ে ৬% নির্ধারণ করায় সবাই খুশি হয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই কর দিতে রাজি হয়েছেন। এখন আর আবেদন পাওয়া যাচ্ছে না।’
পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল বলেন,‘আমি পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র হিসাবে পৌর নাগরিকদের সাথেই থাকতে চাই। তাই সকল শ্রেণী পেশার লোকজনের সুবিধার্থে আবাসিক এলাকায় বার্ষিক মূল্যায়নের উপর পূর্বের নির্ধারিত ১৭% পৌরকর থেকে ১১% পৌর কর বাদ দিয়ে ৬% কর নির্ধারণ করা হয়েছে। যা পৌরসভা কার্যালয়ে শহরের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এছাড়া কর নির্ধারণের বিষয়ে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থানীয়দের সাথে সভা করে মতামত নেয়া হয়েছে। সকলেই ৬% হারে নির্ধারণের মতামত দিয়েছেন। এখন বাসা-বাড়ির মালিকরা ৬% হারেই কর প্রদান করবেন।’
তিনি আরো বলেন,‘ আমার বিশ্বাস পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে পৌর এলাকাবাসী ৬% পৌর কর প্রদান করে আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমি পৌরসভার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই এবং সকলের সার্বিক সহযোগিতা চাই।’
- কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা-ধর্মপাশায় ১২ দিন ধরে কর্মস্থলে নেই এলজিইডির ৩ প্রকৌশলী
- ছাতকে সহপাঠীর ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র নিহত, আটক ২


