ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় মুক্তা আক্তার নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে জন্ম নিবন্ধন সনদে ১৮ বছর দেখিয়ে বাল্য বিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুক্তা আক্তার ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ধর্মপাশা গ্রামের বড়পাড়ার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার মেয়ে। গত শুক্রবার দুপুরে বাবুল মিয়ার বাড়িতে এ বাল্যবিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ওই কিশোরী গত বছর ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল।
ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তা আক্তার ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী ছিল। ২০১৫ সালের জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশনও করে মুক্তা আক্তার। পরে চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি সে। বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী মুক্তা আক্তারের জন্ম তারিখ ২০০১ সালের ৭ ডিসেম্বর। সে হিসেবে চলতি মাসে তার বয়স ১৪ বছর ৩ মাস ছাড়িয়েছে। কিন্তু গত ১৪ মার্চ ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম চৌধুরী মোছা. মুক্তা আক্তার নামে ওই কিশোরীর জন্ম তারিখ ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন দেখিয়ে ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দ উল্লেখ করে জন্ম নিবন্ধন সনদ দেন। জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী মুক্তা আক্তারের বয়স ১৮ বছর ৯ মাস।
এ জন্ম নিবন্ধন সনদ দেখিয়ে গত শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের বাবনিকোণা (কান্দার বাড়ি) গ্রামের মৃত কাচু মিয়ার ছেলে মো. ইসলাম নূরের (২৪) সাথে এক লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুক্তা আক্তারের বিয়ে দেওয়া হয়। বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানার এসআই শেখ মোহাম্মদ রুবেল বিয়ে বাড়িতে যান। এ সময় জন্মনিবন্ধন সনদের ওপর ভিত্তি করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে এমন কথা ওই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হলে পুলিশ জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি নিয়ে থানায় ফিরে যায়। সদর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার কাজী আব্দুল মান্নান এ বিয়ে পড়িয়েছেন।
কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, জন্ম নিবন্ধন সনদে মেয়ের বয়স ১৮ ও ও ছেলের বয়স জাতীয় পরিচয়পত্রে ২৪ দেখে বিয়ে পড়ানো হয়েছে।
ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, গত বছর অষ্টম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রী মুক্তা আক্তারের বয়স ১৮ হয়নি।
ধর্মপাশা থানার এসআই শেখ মোহাম্মদ রুবেল বলেন, আমরা বাল্যবিয়ের খবর শুনে বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পর মেয়ের বাবা, মা, আত্মীয় স্বজনরা জানায় স্থানীয় চেয়ারম্যান জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়েছেন। চেয়ারম্যান সাহেবও আমাদের জানিয়েছেন তিনি জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়েছেন। তাই আমরা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি নিয়ে চলে আসি।
এ ব্যাপারে ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, জন্ম নিবন্ধন সঠিক না হয়ে থাকলে চেয়ারম্যানকে তার জবাব দিতে হবে। জন্ম নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার কাছে দাখিল করা হলে বিষয়টি দেখবো।


