ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে ছাত্রলীগ ও অটোটেম্পু-অটোরিক্সা শ্রমিকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান, পথচারীসহ উভয় পক্ষের অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। রবিবার বিকেলে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় ভাংচুর করা হয়েছে অটোটেম্পু-অটোরিক্সা শ্রমিকদের দুটি অফিস কক্ষ ও অর্ধ শতাধিক টেম্পু ও সিএনজি-ফোরষ্ট্রোক। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছ। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিআর সেল ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল শেষে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে পথসভা করার সময় একটি সিএনজি-ফোরষ্ট্রোক সভার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে ওই সিএনজি চালক। এ ঘটনার সূত্র ধরে ছাত্রলীগ ও অটোটেম্পু-অটোরিক্সা শ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। কয়েক দফা ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। সড়কের উভয় পাশে শত শত যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ধাওয়া খেয়ে এক পর্যায়ে পরিবহন শ্রমিকরা তকিপুর এলাকায় অবস্থান নিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অটোটেম্পু-অটোরিক্সা শ্রমিকদের দুটি অফিস কক্ষ ভাংচুর করে। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা স্ট্যান্ডে থাকা কিছু গাড়ি ভাংচুর করে। খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ রাউন্ড টিআর সেল ও ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে দু’পক্ষের ছোঁড়া ইট-পাটকেলে পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান, পথচারীসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্রলীগের আবুল কাসেম শাহীন, দ্বীনুল ইসলাম শ্যামল, শ্রমিক ইমামুল হক, সদর উদ্দিন, লিটন, শফিক, সাকিব, শাকিল, সিরাজুল, সদরুল, বিরহাম, ইকরাম, আবিদ, তারেক, জুনেদ, রাইম আলী, নুরুল আমিনসহ ২০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
আহত ছাতক থানার এসআই সোহেল রানা, কনষ্টেবল মাহফুজ, সুমন পাল, যুবলীগ নেতা ওবায়দুর রউফ বাবলু, ছাত্রলীগ নেতা তাজাম্মুল হক রিপন, রাকিব উদ্দিন, আল-আমিন, নাজমুল হোসেন, আজাহার, এসকে মাহিন, পাবেল, জিলানী, সালমান, সাজু, মাহবুব, বাবলুর রহমান, রাসেল আহমদ, লিটন, জনি, উজ্জল, নজরুল, সেলিম, মিলাদ, মোতাহার, সুমন মিয়া, শ্রমিক সাব্বির, এনামুল হক, নুরুল হক, আনসার, আহমদ আলীসহ আহতদের ছাতক এবং কৈতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ৬ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পয়েন্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ অটোটেম্পু ষ্ট্যান্ডের সভাপতি আফতাব উদ্দিন জানান, পূর্ব পরিকল্পিভাবে তার প্রতিদ্বন্দ্বি ফখর উদ্দিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নামধারীরা মিছিলসহকারে স্ট্যান্ডে এসে হামলা করে তাদের দুটি কার্যালয়, প্রধান মন্ত্রী-বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ ৭০টি গাড়ি ভাংচুর করেছে। তাদের হামলায় ও আকষ্মিক তান্ডবে স্ট্যান্ডে থাকা ৩০জন অটো-টেম্পু শ্রমিক আহত হয়েছে। অফিসের দানবাক্স ও একটি গাড়িতে থাকা প্রাণ কোম্পানীর মালামাল লুট করে নেয় হামলাকারীরা।
জেলা ছাত্রলীগের মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল গাফফার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ সিলেটের তিন নেতাকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে স্ট্যান্ডে পথ সভা করতে গেলে সভা স্থানে এক শ্রমিক তার গাড়ি ঢুকিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে শ্রমিকদের কথা কাটা-কাটি হয়। এ ঘটনায় শ্রমিকরা ছাত্রলীগের উপর হামলা করলে ছাত্রলীগের সাথে তাদের সংঘর্ষ ঘটে। প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি তারা নিজেরাই ভাংচুর করে ছাত্রলীগের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।
- সদস্য পদে প্রার্থী হচ্ছেন ৯ আইনজীবী
- বিএনপির দুই গ্রুপকে নিয়ে সিলেটে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিনভর বৈঠক- নালিশ ছিল দু’পক্ষেরই


