আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
সকল জল্পনা কল্পনা আর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে জামালগঞ্জের প্রধান বিপণি কেন্দ্র সাচনা বাজারের রাস্তার মাঝ খানে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা দোকানের উচ্ছেদ কার্যক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হলেও কাজটিকে বিলম্বিত করতে দখলকাররা নানা বাহানা শুরু করেছেন। অবশ্য উপজেলা প্রশাসন বলেছেন যত ধরনের কৌশলই করুক না কেন তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে। তবে সকল নিয়ম-কানুন মেনে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। প্রশাসনের সাথে একাত্মতা পোষণ করে সহযোগিতা করছেন উপজেলার জনপ্রতিনিধিগণরা। কূটকৌশল হিসেবে এদিকে অবৈধ দখলদারদের পক্ষ থেকেও জেলা প্রশাসনের কাছেও আবেদন করা হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান বিলম্বিত করার জন্য।
গত উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সাচনা বাজারের চেয়ারম্যান বাজারের রাস্তা দখল করা সকল দোকান উচ্ছেদের জন্য জোর আবেদন জানান। স্থানীয় চেয়ারম্যানের
জোর আবেদনের পেক্ষিতে সভায় রাস্তা দখল হওয়া দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে থানার অফিসার ইনচার্জ রাস্তা দখল করে গড়ে উঠা দোকানের মালিকদের তালিকা তৈরী করেন ও উচ্ছেদের প্রাথমিক কার্যক্রম হিসেবে। ইতিমধ্যে রাস্তার মাঝখানে দোকানদারকে মৌখিক নোটিশ করা হয়েছে, পাশাপাশি রাস্তা থেকে দোকান সরাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়েছে।
জানা যায়, অতীতে সাচনা বাজারের মাঝ খানের ২ শতাধিক দোকানীকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসন একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। সাচনা বাজার বণিক সমিতির পক্ষ থেকে বার বার উচ্ছেদের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সাচনা বাজারের মাঝখানের রাস্তা দখল করে গড়ে উঠা ছোট বড় ২ শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। একটি পক্ষ ভাসমান চালি সমিতির নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাজারে ভিট দেবার নামে আদায় করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।
সাচনা বাজারের অবৈধ দখলদার ও ভাসমান চালি সমিতির সাধারণ সম্পাদক পলক গ্রামের শাহজাহান মিয়া বলেন, রাস্তার মাঝ খানে দোকান করা মোটেও উচিত না, প্রশাসন আমাদেরকে রাস্তা পরিস্কারের কথা বলেছে, আমরা রাস্তা থেকে উঠে যাবো, আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে। আমাদের মধ্যে যারা গরীব তাদের পুনর্বাসন করার দাবি আমাদের দীর্ঘ দিনের।
সাচনা বাজার পরিবেশক সমিতির টনিক বণিক জানিয়েছেন, সাচনা বাজারের রাস্তা দখল হয়ে যাবার কারণে বাজারের মধ্যে কোন পন্যবাহী গাড়ী আসতে পারে না, দোকানগুলো উচ্ছেদ হলে বাজারের পরিবেশ সুন্দর হবে। সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন কুমার রায় বলেন,রাস্তার মাঝ খানের দোকান গুলো উচ্ছেদের দাবি দীর্ঘদিনের। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে রাস্তাটিকে উদ্ধার করা গেলে বাজারের সৌর্ন্দয্যই বেড়ে যাবে। বাজারে আগতদের চলাচলও আরামদায়ক হবে।
সাচনা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ইউসুফ আল আজাদ জানান, ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজারের সুনাম ধরে রাখতে হলে বাজারের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের কোন বিকল্প নেই। বাজারের স্বার্থেই উচ্ছেদ অভিযান প্রায়োজন।
সাচনা বাজারের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম করিম শামীম জানান, আমি উপজেলা সমন্বয় সভায় জোরালো ভাবে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বাজারের রাস্তা ফেরানোর দাবি করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন ও উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। আমরা সকল জনপ্রতিনিধিণ এই বিষয়টিতে একমত।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আতিকুর রহমান বলেন, উপজেলার মাসিক সভায় সাচনা বাজারের রাস্তার মধ্যে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আহমেদ পলি বলেন, উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের পেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। উচ্ছেদ নোটিশ তৈরী করে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান করা হবে।


