সবসময় যে বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে না বরং ভুক্তভোগী ও দুর্বলদের পক্ষে দাঁড়িয়ে সুবিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডেসটিনির দুই কর্ণধারের জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বিভাগের দেয়া রায় এর একটি মাইলফলক। গত রবিবার এই আদেশ দেয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশনের নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিকট থেকে সংগৃহিত আমানতের ২৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করলে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন জামিনে মুক্ত হতে পারবেন। উল্লেখ্য, দুদকের দেয়া অভিযোগপত্র অনুসারে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন প্রকল্পের নামে বিনিয়োগকারীদের নিকট থেকে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা এবং মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ প্রজেক্টের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এই টাকার মধ্যে যথাক্রমে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানটি আত্মসাত করে বলে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। মামলাটিতে দুদক যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে সেটিও এই দেশের দুর্নীতি দমনের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেই আমরা মনে করি। ২০০৮ সন থেকে সারা দেশে ডেসটিনির নামে বিশেষত বেকার যুবক, চাকুরীজীবী মধ্যবিত্ত ও মধ্যম ও নি¤œ মানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে লালসার বীজ বপন করা হয়েছিলো তা আমরা কেউই ভুলে যাই নি। অনেকেই ধার-কর্জ করে, ঘরের গয়নাগাটি বিক্রি করে ডেসটিনিতে বিনিয়োগ করেছিলেন দ্রুত বড়লোক হওয়ার আশায়। আমাদের চারপাশের কিছু চালাক লোককে ডেসটিনি এই কাজে ব্যবহার করেছিল। ওই চালাক লোকেরা কথার মায়াজালে ফেলে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে এইভাবে টাকাপয়সা খসিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ডেসটিনির পুরো প্রক্রিয়াটি তাত্ত্বিক কিংবা আইনগত দিক থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান এই লুণ্ঠনকারীদের দমন করতে তখন কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এদিকে ডেসটিনি সাধারণ মানুষের নিকট থেকে সংগৃহিত টাকা একদিকে বিদেশে পাচার করতে থাকে অন্যদিকে এই টাকার একটি অংশ দিয়েই দেশের ভিতরে গড়ে তুলে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের এক বিশাল বাণিজ্য-সা¤্রাজ্য। বলা বাহুল্য সাধারণ মানুষের টাকায় ওইসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও এখানে আমানতকারীদের কোন ধরনের সত্ত্ব বিদ্যমান ছিল না। শেয়ারবাজার কেলেংকারির পর বোধ করি ডেসটিনি কেলেংকারিই এদেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্তদের ফতুর করার জন্য ছিল চমৎকার আর্থিক প্রতারণা। শেষ পর্যন্ত দুর্বলের ভরসাস্থল আদালত এই প্রতারকদের আইনি পন্থায় বিচারের সন্মুখীন করেছেন, এইটিই স্বস্তির কথা।
আমরা অবাক হই, সরকার কেন ডেসটিনির পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে আমানতকারীদের ফেরৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন না। ডেসটিনি কেলেংকারির পর বহু তদন্ত কমিশন ও নানাধরনের কমিটি গঠন হওয়ার খবর আমরা শুনেছি। কিন্তু সবকিছুই আমানতকারীদের টাকা ফেরৎ দিতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এটি সরকার ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের স্বার্থের রক্ষক না থাকার বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে আসে। এদিকে ডেসটিনির সাবেক ওই উচ্ছিষ্টভোগীরা এখনও নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই চক্র রীতিমতো ডেসটিনির পক্ষে সুগভীর প্রচার যুদ্ধ শুরু করেছে। সরকারের উচিৎ ডেসটিনির নাম দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অনলাইন বা অন্য জায়গায় যত তৎপরতা চলছে সেগুলোকে কঠোরভাবে দমন করা।
মধ্যবিত্ত, নি¤œমধ্যবিত্তদের আকাক্সক্ষা ও প্রাপ্তির ব্যর্থতা থেকে উদ্ভূত যে অতৃপ্তিজনিত মনোবৈকল্য সেটিকেই ডেসটিনি সুনিপুণ কায়দায় ব্যবহার করেছে। এই কায়দার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে যেমন সচেতন থাকতে হবে তেমনি সরকারকেও নিতে হবে আইনানুগ পদক্ষেপ।
- দোয়ারাবাজারে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে রোগীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ
- ৭নং ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী আসাদের মতবিনিময়

