জামালগঞ্জে ইচ্ছা খুশি ভাড়া আদায়

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদল হলে সাথে সাথে কিছু নিয়ম কানুন বদল হয়ে যায়। একবার দু’বার নয় প্রায় প্রতিবারেই এরকম ঘটনা ঘটছে এই উপজেলায়। একটি পক্ষ সব সময়ই সুযোগ সন্ধানী থাকে। ইউএনও বদল হলেই সাথে সাথেই নিয়মটাই বদলে ফেলার চেষ্টা করে তারা। অতীতের রেওয়াজ ও রীতি নীতি পাল্টে দেয়া হয়।
জানা যায়, গেল কয়েক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জামালগঞ্জের সকল জনপ্রতিনিধি, থানার অফিসার ইনচার্জ, অটো, লেগুনা, সিএনজি, মটর সাইকেল মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের  
নিয়ে সব রুটে ভাড়া নির্ধারণ করেন। অথচ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছে মত ভাড়া আদায় করছেন। আর এই নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের শেষ নেই।
সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়কে সিএনজিতে ৫০ টাকা করা হলেও এখন প্রতিযাত্রীর কাছ থেকে ৬০ টাকা আদায় করছেন চালকরা। সাচনা-লম্বাবাঁক সড়কে অটোরিকশা ভাড়া ছিলো ১০ টাকা । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলী শুনেই ভাড়া আদায় করছেন ১৫ টাকা। এই নিয়ে যাত্রী সাধারণের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
যাত্রী সাধারণের পক্ষ থেকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের লম্বাবাঁক গ্রামের হাজী আলমাছ আলীর ছেলে আবুল কালাম অভিযোগটি দায়ের করেছেন। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,  অটো রিকশার চালকরা নিজেদের মনগড়া মত ১০ টাকার পরির্বতে ১৫ টাকা আদায় করছেন। যাত্রীরা তাদের কথা মত ভাড়া না দিলে খারাপ ব্যবহার করেন ও অটো থেকে নামিয়ে দেন। তারা উগ্র ও খারাপ প্রকৃতির লোক হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। তাদের কার্যকলাপের কাছে হাজারো যাত্রী জিম্মি অবস্থায় আছে। দুই একজন যাত্রী প্রতিবাদ করার কারণে তাদের হাতে হেনস্তা ও মারপিটের শিকার হয়েছে এমনকি কয়েকজন যাত্রীকে রাস্তার উপর থেকে নিচে ফেলেও দিয়েছে। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের হাফ ভাড়ার কারণে তাদের দেখলে অটোড্রাইভাররা দূরে চলে যান। ছাত্রছাত্রীরা পায়ে হেঁটে স্কুল কলেজে আসে।’ লম্বাবাঁক গ্রামের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ,হানিফা মিয়া,আ. রহিম বলেন,‘আমাদের এই রাস্তার ভাড়া ছিলো ১০ টাকা। ইউএনও স্যার বদলী হওয়ার সুযোগে ভাড়া ভাড়িয়ে ১৫ টাকা করেছে। ভাড়া ১৫ টাকা না দিতে চাইলে যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে, যাত্রীদের অটো থেকে নামিয়েও দিচ্ছে।
সাচনা-লম্বাবাক অটোস্ট্যান্ডের ম্যানেজার কবির হোসেন বলেন,‘লম্বাবাঁকের কয়েকজন মাতব্বর ভাড়া ১০-১৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সাথে জড়িত না। আমি যাত্রীদের সাথে কোন ধরনের দুর্ব্যবহারও করি না।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আলী আক্কাছ মুরাদ বলেন,‘ আমি ঢাকায় ছিলাম । এসে শুনেছি ১০ টাকার মধ্যে ১৫ টাকা করা হয়েছে। এত বেশী বাড়ানো উচিত হয় নি।  
জামালগঞ্জ থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন,‘গত দু-মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জামালগঞ্জের সকল রোডে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। কেউ মনগড়া মত ভাড়া বাড়াতে পারবে না। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সদ্য বিদায়ী জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা বলেন,‘আমি জামালগঞ্জ থাকাকালীন সময়ে বিআরটিএর কর্মকর্তার সাথে কথা বলে উপজেলার সিএনজি, অটো, লেগুনা, মোটর সাইকেলের ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। সভায় মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি, জনপ্রতিনিধিগণ, ,সাংবাদিকগণ ছিলেন। হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানো মোটেই উচিত হয়নি। হাকিম বদল হলেও হুকুম বদল হওয়ার নজির নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আহমেদ পলি বলেন,‘ ভাড়া বাড়ানোর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সাচনা-লম্বাবাঁক সড়কে যাত্রীদের কাছ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’