ঘটনাস্থল: পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টার- আবারো ভুয়া চিকিৎসক সেজে লাভলুর প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জ উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের সাহেদা খাতুন জয়নগর এলাকার ব্রহ্মোত্তর গ্রামের ছোট ভাই আব্দুল কাদিরকে নিয়ে শুক্রবার এসেছিলেন ডা. ফরিদ আহমেদের কাছে চিকিৎসা নিতে। বৃহস্পতিবার শহরের হোসেন বখত চত্ত্বরের নিকটবর্তী পৌর মার্কেটের একটি ফার্মেসীর মালিককে ডা. ফরিদ আহমদের টিকেট রাখার অনুরোধ করেছিলেন সাহেদা খাতুনের আরেক ছোট ভাই আব্দুর জহির।  
শুক্রবার দুপুরে রিকশা যোগে হোসেন বখত চত্ত্বরে শাহারা ফার্মেসীর কাছে গিয়ে সাহেদা খাতুন ও তার ছোট ভাই আব্দুল কাদির বলেন, আমরা ডা. ফরিদ আহমদকে দেখাতে এসেছি। তখন সাহারা ফার্মেসীতে বসা লোকজন মার্কেটের দ্বিতীয় তলার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মুসলেহ উদ্দিন ওরফে লাভলুর কাছে তাদেরকে নিয়ে যান। পরে সাহেদা খাতুনকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাডে একটি ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন লাভলু। ব্যবস্থাপত্রে লাভলু ১২ জাতের ঔষধ লিখেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ব্যবস্থাপত্র বাবদ তাদের কাছ থেকে ১৯০০ টাকা নেয়া হয়।   
পরে সাহারা ফার্মেসীতে ঔষধ কিনতে গেলে জানানো হয় সব ঔষধ বাজার ছাড়া পাওয়া যাবে না।
পরে সাহারা খাতুন ও তার ছোট ভাই ব্যবস্থাপত্রটি নিয়ে একই মার্কেটের অন্য একটি ফার্মেসীতে গিয়ে বলেন,‘ভাই আমাদের বাড়ি টাউনের বাইরে, আমরা ডাক্তার ফরিদ সাবরে দেখাইছি। অকন এই অসুদ কিনন লাগে, আমরার কাছে আর টেকা পয়সা নাই। ভাই এই পেসকিশনের অসুদের দাম কত ?’
প্রেসক্রিপশনটিতে ডা. ফরিদ আহমদের প্যাড না থাকা ও অতিরিক্ত ঔষধ লিখে দেয়ায় ফার্মেসির লোকজনের সন্দেহ হয়। তারা বুঝতে পারেন এটি ডা. ফরিদ আহমদের প্রেসক্রিপসন নয়। আশপাশের অনেক লোকজনও প্রেসক্রিপসন দেখে বুঝতে পারেন এটি ভুয়া। তখন সকলেই ডাক্তার সাজা লাভলুকে ডেকে আনেন। লাভলু স্বীকার করে সেই ওই প্রেসক্রিপসন লিখেছে। পড়ে রোগীর কাছ থেকে নেয়া ১৯০০ টাকাও ফেরৎ দেয়। পাড়ার লোকজন বিষয়টি তাৎক্ষণিক সদর থানার পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
সাহেদা খাতুনের ছোট ভাই ব্রহ্মোত্তর গ্রামের আব্দুল কাদির বলেন,‘শুক্রবার আমরা রিকশা দিয়া বগলার পয়েন্টে নাইম্মা একটা ফার্মেসীর কাছে কইলাম আমরা ডাক্তার ফরিদ সাবের দেখাইতাম। ওই ফার্মেসীর লোকজন আমরারে দুইতালাত নিয়ে গেছে। ৪টা পরীক্ষা ও পেসকিপসন লেইক্কা জানায় ১৯০০ টেকা বিল অইছে। আমরা ১৯০০ টেকা দিয়া আই। পরে আরেকটা ফার্মেসীত অসুদ কিননও গেলে মানুষ কয় এইখানও ডাক্তার ফরিদ বয় না। আমরারে টাউটে ফাইলাইছে। এলাকার মানুষরা আমরার ১৯০০ টেকা আদায় কইরা দিছইন। বড় ভাইসাবের রাখা টিকেটের খবর পাইয়া আমরা পরে ফরিদ সাবরে দেখাইয়া আইছি। টাউট ডাক্তর বড় আপার পেসকিপশনে ১২ জাতের অসুদ লেখছিল। ’
হোসেন বখত চত্ত্বর এলাকার বাসিন্দা শংকর দাস ও রিংকু চৌধুরী বলেন,‘লাভলু ডাক্তার সেজে এসব কাজ করে আসছে। ইতোপূর্বে সে এসব কাজে ধরা পড়েছিল এবং পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। আজও (শুক্রবার) সে আবারো হাতে নাতে ধরা পড়েছে। প্রতারণা করে আদায় করা ১৯০০ টাকা ফেরত দিয়েছে। লাভলু পাড়ার লোকজনের কাছে অঙ্গীকার করেছে সে আর এই কাজ করবে না। পরে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে গেছে। ’
সদর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন,‘এলাকার লোকজনের ফোন পেয়ে পুলিশ হোসন বখত চত্বরে গিয়েছিল। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি টাকা ফেরৎ দেয়ায় ও অভিযোগকারীদের সাথে মিটমাট হয়ে যাওয়ায় পুলিশ ফিরে আসে।’
সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন,‘ পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কোন অনুমোদন নেই। এখানে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার কোন সুযোগ সেই। এটার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এটা বন্ধ করে দিয়েছিল। নুতন করে আবারো চালু করলে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উল্লেখ, অভিযুক্ত মুসলেহ উদ্দিন লাভলু গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউপির দিনারপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ১৫ মাস বয়সী এক শিশুকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেড নেক সার্জন কলসালটেন্ট ডা. আজাদুর রহমান সেজে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। পরে ওই বিষয়টি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের কাছে ধরা পড়েছিল এবং গত ১ অক্টোবর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘ভুয়া চিকিৎসক সেজে চিকিৎসা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় ভুয়া চিকিৎসক মুসলেহ উদ্দিন লাভলু ওই শিশুকে ডা. আজাদুর রহমানের পরামর্শে চিকিৎসা দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন। তবে ডা. আজাদুর রহমান ওইদিনের শিশু চিকিৎসায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।