আকরাম উদ্দিন
বৃটিশ শাসনামলে নির্মিত শহরের সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পার্শ্বে মুসলিম ছাত্রাবাস ও হিন্দু ছাত্রাবাস। এই দুই ছাত্রাবাস জুড়ে রয়েছে নানা সমস্যা। মুসলিম ছাত্রাবাসের পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে আছে। পশ্চিম পাশে নির্মিত দু’তলা ভবনে ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। উত্তর দিকে অবস্থিত হিন্দু ছাত্রাবাস। এই ভবনও জরাজীর্ণ অবস্থায় ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থী নাহিদ আহমদ, মেহেদী হাসান, আখলাকুর রহমান, বিলাল আহমদ, হৃদয় চক্রবর্তী, রজত কান্তি সরকার, দ্বীপ তালুকদার, সমীর বৈষ্ণব ও সন্দ্বীপ পাল বলেন, ‘দুই ছাত্রাবাসের বাহির ও ভেতর নানা সমস্যায় জর্জরিত। এমনকি ডাইনিং রুম পর্যন্ত ভাঙ্গাচুরা । নিরাপদ পানি সংকটে ভুগছি আমরা।’ তাঁরা পুরাতন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে দুই ছাত্রাবাসের জরুরী সংস্কারের দাবি জানান। তবে সংস্কার কাজের জন্য ইতিমধ্যে বরাদ্দ চেয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অচিরেই সংস্কার কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
বিদ্যালয়
সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভবন সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে বিদ্যুত লাইনের সমস্যা রয়েছে। বিদ্যালয়ে অবস্থানরত ১৬৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৩টি টয়লেট রয়েছে। পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই, বিভিন্ন
রুমের ফ্লোর ভাঙ্গাচুরাসহ নানা সমস্যা বিরাজ করছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। তিনি জানান, পুকুরের পশ্চিমপাড়ে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ এবং দুইটি ছাত্রাবাস সংস্কার জরুরী প্রয়োজন।
মুসলিম ছাত্রাবাস:
মুসলিম ছাত্রাবাসের প্রবেশ গেইটের আশপাশে নোংরা আবর্জনায় ভরা। হাতের ডানে অবস্থিত ছাত্রাবাসের পুরাতন ভবন। ভবনে টিনের ছাউনী, কাঠের বর্গা, বারান্দা ও কক্ষসমূহের সিলিং, সুরকির দেয়াল ও দেয়ালে স্থাপিত অ্যালমুনিয়ামের নেট, মেঝের পাকা ফ্লোর, দরজা, জানালা সবই ভাঙ্গাচুরা। পুরাতন ভবনের ৭টি রুম ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়ে আছে। এসব রুমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। পুরাতন এই ভবনের পাশে স্থাপিত স্টোর রুমের অবস্থাও করুণ। ভবনের ছাদের টিনে ঝং ধরে নষ্ট হতে চলেছে। দীর্ঘদিন যাবত মেরামত কাজ হয়নি বা রঙের ছোঁয়াও লাগেনি। ছাত্রাবাসের সামনের প্রাঙ্গণে ও পুকুরপাড়ে দেয়ালের ভেতরে মাটি ভরাট নেই। ময়লা আবর্জনার স্তুপ রয়েছে সর্বত্র। ছাত্রাবাসের পশ্চিম-উত্তর কোণে দুটি বাথরুমের সংস্কার কাজ না হওয়ায় দরজা ভেঙ্গে গেছে। ছাত্রাবাসের উত্তর দিকে একটি গর্ত রয়েছে। এই গর্তে ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি। পরিবেশ দূষণসহ মশা ও মাছি উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল এই গর্তগুলো। ছাত্রাবাসে অবস্থানরত ৫৫জন ছাত্রের নিরাপদ পানি সংকট নিরসনে নেই কোনো নলকূপ। মুসলিম ছাত্রাবাস এলাকায় পরিকল্পিতভাবে গাছ সংরক্ষণ হয়নি বা গাছের যতœও নেয়া হয়নি। দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার যথাযথ সংরক্ষণ না থাকায় নোংরা আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে।
হিন্দু ছাত্রাবাস:
হিন্দু ছাত্রাবাস ভবনেও বিরাজ করছে নানা সমস্যা। ভবনের সকল রুমের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। সিলিং নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা আছে। রুমের ভেতরে ও বারান্দায় মেঝের ফ্লোর নষ্ট। দীর্ঘদিন যাবত টিনের ছাউনীতে রঙ না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছাত্রাবাসের সামনের প্রাঙ্গণের গর্ত র ভরাট হয়ে গেছে, অপর আরেকটি গর্ত আংশিক ভরাট। পিছনে রয়েছে আরও একটি নোংরা-আবর্জনায় ভর্তি গর্ত। পরিবেশ দূষণসহ মশা ও মাছি উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল এই গর্তগুলো। বর্ষায় পুরো আঙ্গিনায় পানি জমে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
হোস্টেল সুপার মো. আব্দুল মকদ্দুছ বলেন, ‘পুরাতন হোস্টেলের ভেতরে ও বাইরে নানা সমস্যা রয়েছে। এমনকি নতুন দুইতলা হোস্টেলেও রয়েছে কিছু সমস্যা। খাবার পানির নলকূপ নেই। পুরাতন ভবনগুলো সংস্কার করা হলে এলাকার পরিবেশও সুন্দর হবে এবং স্মৃতিও ধরে রাখা সম্ভব হবে।’
জুবিলীর পুকুর
সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তার পাশে অবস্থিত বিশাল পুকুরটি এখন মজা পুকুরে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত এই পুকুরের যথাযথ সংরক্ষণ নেই। পুকুর ও জুবিলী স্কুলের দক্ষিণ কর্ণারে ভাসমান দোকানীদের ময়লা-আবর্জনা ফেলা, পথচারীদের প্রশ্রাব করা, পুকুরের পশ্চিমের দুই কোণে আবাসিক বাসার ময়লা ও গোবর ফেলার কাজে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে এই পুকুর।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুল হক মোল্লা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের, প্রধান শিক্ষকের বাসভবন এবং দুই হোস্টেল সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বরাদ্দ চেয়েছি। শুনেছি বরাদ্দ এসেছে, কাজের টেন্ডার হবে।’
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শামছুল আরেফিন খান বলেন, ‘সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে।’
- সুস্বাস্থ্যের জন্য বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন করতে হবে -ড. আজগার আলী
- ভোট কেনার টাকা ফেরতের দাবি সদস্য প্রার্থীদের


